Home আঞ্চলিক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ পরিচয়ে পিরোজপুরে ভুয়া চিকিৎসককে আটকের পর ২ বছরের কারাদণ্ড

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ পরিচয়ে পিরোজপুরে ভুয়া চিকিৎসককে আটকের পর ২ বছরের কারাদণ্ড

2

পিরোজপুর প্রতিনিধি।।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার অভিযোগে এক ভুয়া চিকিৎসককে আটক করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এর আগে রবিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে পৌর শহরের দক্ষিণ বন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তির আসল নাম সুভাষ চন্দ্র মোহন্ত।

ধর্মান্তরের পর তিনি নুরুল হাসান নাম ধারণ করেন বলে জানা গেছে। পুলিশের তথ্য মতে, তিনি বগুড়া, গাইবান্ধা ও জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন স্থানকে নিজের ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাক বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতেন।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ’তিনি নিজেকে ‘ডা. লিয়াকত হোসেন’ পরিচয় দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বিভিন্ন ক্লিনিকে হৃদরোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। প্রায় এক মাস আগে এক প্রসূতি মায়ের পরীক্ষা করে তিনি গর্ভের সন্তান মারা গেছে বলে ভুল রিপোর্ট দেন।’

পরে অন্য চিকিৎসকের আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে দেখা যায় শিশুটি জীবিত ও সুস্থ। এর পর থেকেই তার কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।

পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. সৌমিত্র সিনহা বিষয়টি প্রশাসনকে জানান। এরপর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত দেবনাথের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে দক্ষিণ বন্দর এলাকার সাদেকা ভিলার নিচতলা থেকে তাকে আটক করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বারবার ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় দেন—প্রথমে ডা. লিয়াকত হোসেন, পরে ডা. নুরুল ইসলাম এবং এক পর্যায়ে উরিং চাং নামের একজন চাকমা চিকিৎসকের পরিচয় দেন। তবে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা বিএমডিসি নিবন্ধন দেখাতে ব্যর্থ হন।

পরে অপরাধ স্বীকার ও বৈধ প্রমাণ না পাওয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত দেবনাথ জানান, ’জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এ ধরনের ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।’