Home খেলাধুলা বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজতিন অধিনায়কে সমন্বয়ের চেষ্টা

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজতিন অধিনায়কে সমন্বয়ের চেষ্টা

2

স্পোর্টস ডেস্ক।।

তিন সংস্করণে তিন অধিনায়ক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার দিন হতাশ ছিলেন জাতীয় দলের কয়েকজন ক্রিকেটার।

বয়সে তরুণ সেই ক্রিকেটাররা বলেছিলেন, ‘তিন অধিনায়ক হলে আমরা সমস্যায় পড়ি। ভিন্ন ভিন্ন সংস্করণে অধিনায়কদের মন জুগিয়ে চলতে হয়। প্রত্যেকেই আলাদা পরিকল্পনা ও দর্শন নিয়ে দল পরিচালনা করেন। এতে করে এক সংস্করণ থেকে অন্য সংস্করণে গিয়ে মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভালো পারফরম্যান্স করা সম্ভব হয় না। একজন বা দুজন অধিনায়ক থাকলে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বোঝাপড়া ভালো থাকে। আমরা বুঝতে পারি অধিনায়ক কী চান এবং সেভাবে খেলতে পারি।’

৯ মাস ধরে জাতীয় ক্রিকেট দল তিন অধিনায়কের ভার বহন করতে গিয়ে স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়েছে। জাতীয় দল সূত্রের খবর, এতে করে ক্রিকেটারদের এক সুতায় বাঁধা সম্ভব হচ্ছে না। অধিনায়করা নিজ নিজ সংস্করণ নিয়ে বেশি ফোকাস থাকেন বলে অভিযোগ।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন। তাই জাতীয় দলকে এই বিশৃঙ্খলা থেকে বের করে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে শেষে তিন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ ও লিটন কুমার দাসকে সমন্বয় করার বার্তা দিয়েছেন। তামিম তিন অধিনায়ককে মানসিক বিভেদ ভুলে পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানান একজন কর্মকর্তা।

২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে যাওয়ার ঠিক আগের দিন আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নির্দেশে নাজমুল হোসেন শান্তকে সরিয়ে ওয়ানডে অধিনায়ক করা হয় মেহেদী হাসান মিরাজকে। টেস্ট সিরিজ শেষ করেই শান্ত নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন। শ্রীলঙ্কা সফর থেকেই জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে বিভেদ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গত ৯ মাসে একাধিকবার বিসিবি সভাপতির চেয়ারে পরিবর্তন এলেও জাতীয় দলকে বিভেদমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শুক্রবার ম্যাচ শেষে এ নিয়ে কথা বলেন তামিম ইকবাল।

সেখানে উপস্থিত থাকা এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ‘তিন অধিনায়কের মধ্যে মিল নেই বলে যে প্রচার আছে, সভাপতি সেগুলো নিয়েই কথা বলেছেন। তাদেরকে বলা হয়েছে মিলমিশ করে জাতীয় দলের স্বার্থ দেখার জন্য। সোজা কথা অধিনায়কদের সমন্বয় করতে বলা হয়েছে।’ বিসিবির বিগত পরিচালনা পর্ষদ তিনজন অধিনায়ককে দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্ব দিয়েছে। ২০২৫ থেকে ২০২৭ সাইকেলে টেস্ট দলের অধিনায়ক শান্ত। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেবেন মেহেদী হাসান মিরাজ। লিটন কুমার দাসকে অধিনায়ক করা হয়েছে ২০২৮ সালের টি২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। এ মুহূর্তে নেতৃত্ব পরিবর্তন করা হলে সমালোচনার মুখে পড়বেন তামিম ইকবাল। এ কারণে অধিনায়কদের মধ্যে থাকা দূরত্ব কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান একজন ক্রিকেটার।

সাবেক প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের পরামর্শে ২০২৩ সালে নাজমুল হোসেন শান্তকে তিন সংস্করণে অধিনায়ক করা হয়। বাঁহাতি এ ব্যাটারের নেতৃত্বেই ২০২৪ সালে টি২০ বিশ্বকাপ খেলেছে বাংলাদেশ। ফর্ম ভালো না যাওয়ায় শান্ত কুড়ি ওভারের ক্রিকেটের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। লিটন কুমার দাসকে অধিনায়ক করা হয়েছিল ২০২৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। জাতীয় দল এ রকম সমস্যার ভেতর দিয়ে আগেও গেছে। ২০২১ সালে নিউজল্যান্ড সফর শেষে সাবেক পেস বোলিং কোচ অটিস গিবসনের রিপোর্টে লিখেছিলেন, একই দলে থাকার পরও অধিনায়করা যার যার সংস্করণ নিয়ে ভাবেন। এই সমস্যার শিকার হতে হয়েছিল তামিমকেও। জীবন থেকে নেওয়া অভিজ্ঞতার আলোকে তাই শান্ত, মিরাজ, লিটনকে বার্তা দিয়েছেন বোর্ড সভাপতি।