Home জাতীয় দেশে করোনায় আরও একজনের মৃত্যু: মোট আক্রান্ত ২৪ জন

দেশে করোনায় আরও একজনের মৃত্যু: মোট আক্রান্ত ২৪ জন

9

ঢাকা অফিস

দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুজন মারা গেলেন। এছাড়া ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও চারজন। ফলে দেশে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সভাকক্ষে করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক এ কথা জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে করোনায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স ৭৩ বছর। তিনি অন্যান্য নানা রোগেও ভুগছিলেন। এই নিয়ে ২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন। নতুন করে ৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। প্রাতিষ্ঠানিক সঙ্গরোধে (কোয়ারেন্টাইন) আছেন প্রায় ৫০ জন। দেশের জেলা উপজেলায় ১৪ হাজার বাড়িতে সঙ্গরোধে আছেন। করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে চীন থেকে বিশেষজ্ঞ (এক্সপার্ট) টিম নিয়ে আসা হবে জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, করোনা প্রতিরোধে আমরা গত দুই মাস যাবত কাজ করে যাচ্ছি। করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে চীন থেকে বিশেষজ্ঞ (এক্সপার্ট) নিয়ে আসা হবে।

করোনা চিকিৎসায় দেশব্যাপী প্রস্তুতির কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন করে ৪০০ ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) চালু করা হবে। শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউশন হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন ইতোমধ্যে প্লেন আসা যাওয়া বন্ধ হয়েছে। সকল কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করেছি। আর মাস্ক সহ অন্যান্য সরঞ্জাম আমাদের হাতে এসেছে। আমরা চীনে অর্ডার দিয়েছি। এসব সরঞ্জাম প্লেনে আসবে। বিয়ে, ধর্মীয় সভা সমাবেশ বন্ধ করারও অনুরোধ জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, আপনারা এখন বিয়ে, সামাজিক-ধর্মীয় সভা সমাবেশ বন্ধ রাখুন। এছাড়া অনেকে বিদেশ থেকে এসে আত্মগোপন করে আছেন। আপনাদের পরিবারকে বাঁচাতে হলেও এটা করবেন না।

  • করোনা রোধে ১০ দেশ থেকে বাংলাদেশে ফাইট আসা নিষিদ্ধ

ঢাকা অফিস

কোভিড-১৯ ভাইরাস মহামারী ছড়িয়ে পড়া রোধে বাংলাদেশ শনিবার মধ্যরাত থেকে ৩১ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত ১০টি দেশ থেকে ফাইট আগমন নিষিদ্ধ করেছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) জারি করা এক নোটামে (নোটিশ টু এয়ারম্যান) জানিয়েছে, ২১ মার্চ মধ্যরাত থেকে ৩১ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। সিএএবি মুখপাত্র আজ গণমাধ্যমকে এ কথা জানান।

নোটামে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, ইউএই, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ওমান, সিঙ্গাপুর ও ভারত থেকে ছেড়ে আসা নির্ধারিত কোন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ফাইট বাংলাদেশের কোন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করতে পারবে না।’

এরআগে এই দশটি দেশ করোনাভাইরাস আতঙ্কে বাংলাদেশীদের তাদের দেশে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে।

সরকারি সূত্র জানায়, এই দশটি দেশ বাদে যুক্তরাষ্ট্র, ব্যাংকক, চীন এবং হংকং থেকে ফাইট পরিচালনা উন্মুক্ত থাকবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বাদে ইউরোপ থেকে বাংলাদেশমুখী সকল পর্যটকদের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ দেশে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে।

  • করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নেয়া কার্যক্রম

ঢাকা অফিস

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশের সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। এছাড়াও বিদেশ থেকে আসা নাগরিকদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করাসহ করোনা প্রতিরোধে গঠিত কমিটিকে সার্বিক সহায়তা এবং বিদেশ ফেরত নাগরিকদের হোম কোয়ারেন্টাইনের বিষয়টি নিশ্চিত করে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধিদেরকে আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকা ও কর্মস্থলে অবস্থান করে স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সার্বিক সহায়তা প্রদানের জন্যও নির্দেশনা প্রদান করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমার জন্য ব্যবহৃত স্থানটিকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য ব্যবহার উপযোগী করা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে

ঢাকা মহানগর হাসপাতালকে করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত রোগীদের আইসোলেশনের রাখার জন্য প্রস্তুত রাখা, সিটি কর্পোরেশন এলাকার সুবিধাজনক স্থানে জনগণের হাত ধোয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তরল হাতধোয়ার সাবান এবং হাত জীবাণুমুক্ত করার জন্য স্যানিটাইজার রাখার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

“করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয়” শীর্ষক প্রচারণা (মাইকিং ও লিফলেট) এবং মাস্ক বিতরণ করা, যে কোন প্রকার জনসমাগম রোধকল্পে সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরগণের নেতৃত্বে ওয়ার্ডভিত্তিক তদারকি কার্যক্রম নিশ্চিত করা এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সম্প্রতি বিদেশ ফেরত কোন ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা এবং তার পরিবারের সদস্যবৃন্দকে জনসম্মুখে না আসার জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে প্রচারণা চালানো ও অবাধ্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এবং যে কোন প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সকল সিটি কর্পোরেশনের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা, সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালগুলোকে জরুরী প্রয়োজনে প্রস্তুত রাখার বিষয়েও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সরকারের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং অধীনস্থ দপ্তর, সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করা এবং সকল নির্দেশনা ও বিজ্ঞপ্তি যথাযথ অনুসরণ করা, ওয়ার্ডভিত্তিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বেচ্ছাসেবীকে যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান ও তাঁদের প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের মাধ্যমে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা এবং এ বিষয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মতামত ও পরামর্শ অনুসরণ করার জন্যও নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

যে কোন ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় কোয়ারেন্টাইন সুবিধা প্রদানের মত উপযুক্ত স্থানের ব্যবস্থা রাখা, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পাঠানো সভার কার্যবিবরণী, নির্দেশনা ও বিজ্ঞপ্তির আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকেও নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

বিদেশী সংস্থার সঙ্গে সভা ও বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত রাখার বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।