Home আঞ্চলিক যশোর শিক্ষাবোর্ডে আরও আড়াই কোটি টাকার চেক জালিয়াতির অভিযোগ

যশোর শিক্ষাবোর্ডে আরও আড়াই কোটি টাকার চেক জালিয়াতির অভিযোগ

7

যশোর অফিস ।।

যশোর মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড থেকে চেক জালিয়াতি করে আরও আড়াই কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হলে দুদকে আরও একটি অভিযোগপত্র দিয়েছে শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ। অভিযোগে বলা হয়েছে- হিসাব সহকারী আবদুস সালাম বর্তমান চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর হোসেন সচিব থাকাবস্থায় এসব জালিয়াতি করেছেন। তারা মোট কোটি টাকা চেক জালিয়াতি করে তুলে নিয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ২১ আগষ্ট বিজনেস আইটি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে আয়কর বাবাদ ১২ হাজার ২৭৬ টাকা তুলে নেওয়া হয়। একই সালের অক্টোবর শহরের জামে মসজিদ লেনের নূর এন্টারপ্রাইজ নামে ৫৯ হাজার ৩৫ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল মেসার্স খাজা প্রিন্টিং প্রেসের নামে লাখ ৯৮ হাজার ৫৩০ টাকা নিহার প্রিন্টিং প্রেসের নামে লাখ ৯৮ হাজার ৫৩০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এভাবে ৯টি প্রতিষ্ঠানের নামে আরও কোটি ৪৩ লাখ হাজার ৮৭৮ টাকা তুলে নিয়েছেন হিসাব সহকারী আবদুস সালাম। একইসঙ্গে সেকশন অফিসার আবুল কালাম আজাদের নামে ৯৪ হাজার ৩১৬ টাকা আবদুস সালামের নামে ২৫ লাখ ৮০ হাজার ১০ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।

যশোর মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের হিসাব নীরিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক এমদাদুল হক বলেন, ‌‘আমরা আরও প্রায় আড়াই কোটি টাকার চেক জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছি। বিষয়ে দুদকে ২১ অক্টোবর আরও একটি অভিযোগ জমা দিয়েছি। ওই সময় বর্তমান চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর হোসেন বোর্ডের সচিব থাকাবস্থায় প্রথম এই জালিয়াতি করা হয়েছে। বোর্ডের আবদুস সালাম তখন হিসাব শাখার দায়িত্বে ছিলেন। তার নেতৃত্বে ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক যশোরের শরিফুল ইসলাম বাবু এসব জালিয়াতি করেছন বলে আমরা জেনেছি। এখন দুদক বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।’

দুর্নীতি দমন কমিশন যশোর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, ‘আমাদের কাছে আরও প্রায় আড়াই কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগ করা হয়েছে। জালিয়াতির সঙ্গে কারা জড়িত আছে তা খুঁজে বের করা হবে।’

এর আগে ১৮ অক্টোবর আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পাঁচ জনকে আসামি করে মামলা করে দুদক। দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোরের সহকারী পরিচালক মাহফুজ ইকবাল বাদী হয়ে এই মামলা করেছেন।

অভিযুক্তরা হলেন, যশোর মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোল্লা আমীর হোসেন, সচিব অধ্যাপক এএম এইচ আলী আর রেজা, হিসাব সহকারী আবদুস সালাম, প্রতারক প্রতিষ্ঠান ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক শরিফুল ইসলাম বাবু শেখহাটী জামরুলতলার শাহীলাল স্টোরের মালিক আশরাফুল আলম।

গত ১৮ অক্টোবর মামলা হওয়ার পর ওইদিন রাতেই চেয়ারম্যান সচিব তাদের বাংলো থেকে বের হয়ে যান। এরপর তারা কেউ অফিসে আসেনি।

যশোর শিক্ষাবোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাধব চন্দ্র রুদ্র আরও আড়াই কোটি টাকা জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শিক্ষাবোর্ডের কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান জানান, বর্তমান বোর্ড চেয়ারম্যান আগে যখন সচিব ছিলেন তখন থেকে এই জালিয়াতি শুরু করে আবদুস সালাম তার ব্যবসায়ীক পার্টনার।