যশোর অফিস ।।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড থেকে চেক জালিয়াতি করে আড়াই কোটি টাকা উত্তোলনের সঙ্গে চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর হোসেনসহ ৪ জন জড়িত বলে স্বীকার করেছেন ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক শরিফুল ইসলাম বাবু। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠানের ভুয়া প্যাড, সিল ব্যবহার করে বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী কামাল হোসেন ও চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর চেক জালিয়াতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। সব টাকা তাদের কাছে। তার কাছ ফিরতি চেকে তারা এ টাকা নিয়ে গেছেন। সরকারের ভ্যাট বাবদ শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ ১০ হাজার ৩৬ টাকার ৯টি চেক ইস্যু করে। কিন্তু সেই চেকের বিপরীতে প্রতারক চক্র আড়াই কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। বিষয়টি বৃহস্পতিবার বোর্ডের হিসাব শাখায় ধরা পড়লে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। যশোর শিক্ষা বোর্ডের অডিট অফিসার আবদুস সালাম জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরের বিভিন্ন মালামাল ক্রয় বাবদ সরকারের ভ্যাটের ওই চেকগুলো ইস্যু করা হয়। কিন্তু পরে দেখা যায়, ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ৭টি ও শাহীলাল স্টোর নামে দুটি চেকের মাধ্যমে বোর্ডের ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ১০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের সচিব এএমএইচ আলী রেজা জানান, প্রতিষ্ঠান দুটি ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক যশোর শাখা থেকে ওই টাকা তুলে নিয়েছে। বোর্ডের চেকে আমার সইয়ের সঙ্গে চেয়ারম্যানের সই থাকে। তিনি দেখে-বুঝে স্বাক্ষর করেন। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক যশোর শাখার ব্যবস্থাপক রিয়াজ হাসান জানান, ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং যে চেক দিয়েছে তা ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান জানান, এ জালিয়াতির সঙ্গে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান ও তার আস্থাভাজনরা সরাসরি জড়িত। বিষয়টি দুদক তদন্ত করলে আসল রহস্য বের হয়ে আসবে। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর গণমাধ্যমকে জানান, সচিব ও অডিট শাখা থেকে চেক আসে। তারা স্বাক্ষর করার পর আমি করেছি। তদন্ত কমিটি সব রহস্য উদঘাটন করবে।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মোল্লা আমীরের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (কলেজ-১) মুকেশ চন্দ্র বিশ্বাসের নেতৃত্বে ৩ সদস্যর কমিটি তদন্তে আসে। বোর্ড চেয়ারম্যান যশোর ও খুলনায় কর্মরত থাকাবস্থায় যে দুর্নীতি করেছিলেন তার প্রমাণ পায় কমিটি। তারা তাকে বরখাস্তের সুপারিশ করলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনও তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল।
এদিকে শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, টাকা আত্মসাতের এ ঘটনায় মোল্লা আমীর ও কামাল হোসেনের সঙ্গে প্রশাসন শাখার ভারপ্রাপ্ত সেকশন অফিসার রাকিব হাসান ও হিসাব সহকারী আবদুস সালাম জড়িত। এ ঘটনার পর থেকে সালাম গা-ঢাকা দিয়েছেন। শুক্রবার দিনভর বোর্ডে নিজ কক্ষে বসে মোল্লা আমীর তার চক্রের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।










































