স্টাফ রিপোর্টার ।।
খুলনা থেকে রাজশাহীগামী আন্তঃনগর সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনে পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন (২৫) নামে এক প্রসূতি। গত বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাটোরের আব্দুলপুর স্টেশনের অদূরে সন্তান জন্ম দেন ওই গৃহবধূ। আর এতে সহযোগিতা করে মানবিক সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ডা. ফারজানা তাসনিম। তার এমন মানবিকতায় প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার খুলনা থেকে ছেড়ে আসা সাগরদাঁড়ি ট্রেনেই রাজশাহী আসছিলেন তিনি। বসেছিলেন ‘ঙ’ বগির একটি আসনে। ট্রেন ঈশ্বরদী ছাড়ার পরপরই মাইকে একটি ঘোষণা বারবার শুনতে পান- প্রসব যন্ত্রণার কাতরানো এক নারীকে সহযোগিতা করতে ডাক্তার প্রয়োজন।
সেই ঘোষণা শুনে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যান ডা. ফারজানা। কিছুক্ষণ হতবিহবল হয়ে থাকার পর নিজেকে আর সামলাতে পারেননি। আবেগ আর মানবতার টানে তিনি ছুটে যান ‘ছ’ বগিতে সেই নারী যাত্রী সাবিনার কাছে। যেয়ে দেখেন বাচ্চা হবার উপক্রম।
রেল কর্মীদের কাছে চেয়ে নিলেন ফার্স্ট এইড বক্স। সেখানে যা ছিল তা দিয়েই সংক্ষিপ্ত সার্জারির কাজটি সারলেন। মা ও সন্তানকে আলাদা করলেন। তার তত্ত্বাবধানে একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তান প্রসব করেন ওই নারী। তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে ছুটে গেলেন তার নির্ধারিত আসনে। সেখানে তার ব্যাগ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল।
রাজশাহীর উপশহরের মেয়ে এই মানবিক ডাক্তার ফারজানা ৪২তম বিসিএস পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী সার্জন হিসেবে এখন সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
ফারজানা রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রী কলেজের এইচএসসিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। ইন্টার্ন করেন সেখান থেকেই। এরপর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের আরবান হেলথ কেয়ারে চাকরি করেছেন।
ফারজানার বাবা গণপূর্ত বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী সোলায়মান আলী তার মেয়ের এই মানবিক সেবায় মুগ্ধ ও গর্বিত।











































