Home আঞ্চলিক কুকুর আতঙ্কে অতিষ্ট হযে উঠেছে কেশবপুরের মানুষ

কুকুর আতঙ্কে অতিষ্ট হযে উঠেছে কেশবপুরের মানুষ

15

আলমগীর হোসেন, কেশবপুর ।।

কেশবপুর উপজেলাব্যাপী কুকুর আতঙ্কে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে মানুষ দীর্ঘদিন যাবত কর্তৃপক্ষ কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা না থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে। প্রতিদিনিই প্রায় অর্ধশতাধীক  রোগী কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। বড় মানুষ থেকে শুরু করে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে শহরে চলাচল করে।

প্রতিদিনিই হাসপাতালে বাড়ছে কুকরে কামড়ে দেওয়া রোগীর সংখ্যা। কুকুরের কামড়ে ক্ষত বিক্ষত হয়ে আহতরা একের পর এক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসতে থাকলে তাদের সামলাতে স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হয়। গোটা কেশবপুরে কুকুর আতঙ্ক শুরু হয়েছে।

পৌর শহরের মধ্যকুল এলাকার গৃহবধু জান্নাত জাহান জানান, আমার সন্তান দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। আমার বাসা থেকে স্কুলে যেতে প্রায় কিলোমিটার হাঁটতে হয়। সকালে বেশির ভাগ সময় যানবাহন না পেয়ে হেঁটে স্কুলে রওনা হতে হয়। এসময় পথিমধ্যে কয়েক জায়গায় কুকুর অবস্থান করে কুকুর বাচ্চাদের দেখলেই কামড় দিতে এগিয়ে আসে। এসময় আমি বাচ্চাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করতে থাকি।

ষাটোর্ধ্ব বয়সের শহীদ উল্লাহ জানান, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ ডায়াবেটিক এর রোগী। এজন্য আমাকে প্রতিদিন সকাল বিকাল দুই ঘণ্টা করে হাঁটতে হয়। ইদানিং শহরে কুকুরের উপদ্রব এত বেড়ে গেছে আমরা বয়স্করা শহরে হাঁটাহাঁটি করতে ভয় পাই।

উপজেলা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব সিনিয়র সাংবাদিক আজিজুর রহমান বলেন, পূর্বে  দুই তিনটি কুকুর একত্রে ঘোরা ফেরা করত কিন্তু ইদানিং বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে প্রায় পনেরো বিশটি কুকুর একসাথে ঘোরাফেরা করে। কখনো চলন্ত মোটরসাইকেলের সামনে এসে কামড় দিতে এগিয়ে আসে।

কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আনারুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিনই হাসপাতালে কুকুরের কামড়ে আহত মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছে। গত তিন দিনে ১৩ শিশুসহ ২৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। একের পর এক মানুষ কুকুরের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা জলাতঙ্ক রোগের টিকা দিয়ে আহতদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছি।

কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম জানান, কুকুর না মারার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকার কারনে কুকুর নিধন করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি তিনি টিএইচওর নিকট থেকে শুনেছেন। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আলমগীর হোসেন জানান, উপজেলায় প্রায় ১৭ হাজার কুকুর রয়েছে। বেওয়ারিশ কুকুর নিধনে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সবচেয়ে ভাল উপায়। গত কয়েকদিন  ধরে কুকুরে কামড়ানো রোগী বেশী এসেছে। শুধু সেপ্টম্বর  মাসে ৮৩ জন কুকুরে কামড়ানো রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। চলতি বছর গত মাসে ওই ৮৩ জন সহ ৩০২ জন কুকুরের কামড়ে ৩২৯ জন অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আহত হয়েছে। সকল রোগীকে হাসপাতাল থেকে সরকারিভাবে জলাতাঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। ওইসব রোগীদের স্বাস্থ কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে সার্বক্ষনিক তদারকি করা হচ্ছে।

কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এম আরাফাত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ক্ষিপ্র গতিতে চলা এসব কুকুর পথে-ঘাটে, বাড়িতে যাকে পাচ্ছে তাকেই কামড় দিচ্ছে হামলা করছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় কুকুর নিধন অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না। এসব কুকুরকে ভ্যাকসিন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে জলাতঙ্ক রোগের টিকা মজুদ রয়েছে। এছাড়া কুকুরকে উত্ত্যক্ত না করে সবাইকে সতর্কভাবে চলাচলের জন্য আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডাঃ শাম্মী  বলেন, বিষয়টি জেনেছেন এবং সার্বিক খোঁজ খবর রাখছেন। পর্যাপ্ত পরিমানে এআরভি ভ্যাকসিন রয়েছে। যা সরকারীভাবে সকল রোগীকে দেয়া হবে। তিনি আরও জানান, একজন মানুষকে কুকুরে কামড় দিলে চিকিৎসার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যে গাইড লাইন রয়েছে তার মধ্যে কাপড় কাঁচা সাবান পানি দিয়ে ওয়াশ করতে হবে। ক্যাটাগরি অনুযায়ী রোগীকে যে চার ডোজ ভ্যাকসিন দিতে হয় সেটাও সরকারীভাবে পর্যায়ক্রমে দেয়া হবে। কুকুরের কামড়ে ক্ষতস্থান থেকে যাদের রক্ত বের হয়েছে তাদের এআরভির সাথে ওজন অনুযায়ী আরআইজি দিতে হবে। উপযুক্ত রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে এই ভ্যাকসিন উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহ থাকে না। ফলে প্রত্যেক রোগীকে বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়। আরআইজি অনেকে দিয়ে থাকেন আবার অনেকে দেন না। ওটা না দিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তারপরও মহাপরিচালক স্যারের নির্দেশে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ভ্যাকসিনের চাহিদা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রোগীরা যাতে সব ধরনের সেবা পেতে পারেন তার সুব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।