Home আঞ্চলিক পাশে দাঁড়ালেন বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপিসহ পুলিশ বিভাগ

পাশে দাঁড়ালেন বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপিসহ পুলিশ বিভাগ

58

ফলোআপ: কালীগঞ্জে কৃমির ঔষধ খেয়ে মারা যাওয়া ১৩ ভেড়া

সাবজাল হোসেন,বিশেষ প্রতিনিধি ॥

দৈনিক খুলনাঞ্চালসহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর মানবিক সাহায্যে এগিয়ে অসলেন বাংলাদেশ পুলিশ। বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগের আইজি পি বেনজির আহম্মেদের নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্থ দম্পতির হাতে পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে ৪ টি ভেড়া ও নগদ অর্থসহায়তা করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্থ আফজাল আরজিনার বাড়িতে গিয়ে তাদের হাতে এগুলো তুলে দেন।

উল্লেখ্য,প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়ানোর পর একে একে ১৩ টি ভেড়া মারা যায়। এরপর নিঃসন্তান এ দম্পতি পথে বসে গিয়েছিলেন। যে বিষয়টি তুলে ধরে দৈনিক খুলনাঞ্চালসহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় বিভিন্ন শিরোনামে মানবিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এটা নজরে পড়ে বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগের আইজিপিসহ পুলিশের উর্ব্ধতন কর্তৃপক্ষের। সাথে সাথে মানবিক সাহায্যের হাত বাড়ান বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগ। এতে কিছুটা হলেও অভাবী এ দম্পতির মুখে হাসি ফুটিয়েছেন।

সহযোগীতা তুলে দেয়ার সময় ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, একটা হতদরিদ্র পরিবারের পাশে দাড়াতে পেরে তিনি নিজে খুব খুশি। অভাবী পরিবারের অনেকগুলো ভেড়া মৃত্যুর খবরটি মাননীয় আইজিপি মহোদয় অবগত হয়েছেন। তিনি সহমর্মিতা প্রকাশ এবং পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে ওই অসহায় পরিবারকে সহায়তাসহ পাশে দাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। পুলিশ সুপার আরো বলেন, যে ঔষধ সেবনের পর ভেড়াগুলি মারা গেছে, সেই ঔষধের নমুনা নিয়ে পুলিশ বিভাগ তাদের ল্যাবে পরিক্ষার জন্য সংগ্রহ করেছেন। তারা মৃত্যুর সঠিক কারন উদঘাটন করার পর পুলিশের পক্ষ থেকে থানাতে জিডি করে দরিদ্র খামারীর আইনি সহায়তা দেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের প্রানী সম্পদ অধিদপ্তর থেকে মঙ্গলবার রেনেটা কোম্পানীর কৃমিনাশক এভিনেক্স এনে বুধবার সকালে নিয়মমাফিক খাওয়ানোর পর গত ২ দিনে মোট ১৩ টি ভেড়া মারা যায়। মাঠে তাদের কোন জায়গা জমি নেই। বসতভিটের ঝুঁপড়ি ঘরবাধা ৩ শতক ও খামার করা ৫ শতক মিলে মোট ৮ শতক জমির মালিক তারা। ৫ বছর আগে ধারদেনা করে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি মাত্র গর্ভবতী উন্নতজাতের ভেড়া কিনে ঘরোয়া পরিবেশে পালন শুরু করেন। এ থেকে শুরু। এগুলো বংশবিস্তার করতে করতে এখন মোট ৩০ টি ভেড়া হয়েছিল।

ক্ষতিগ্রস্থ আরজিনা বেগম বলেন, ১৫ বছর আগে বিবাহ হলেও তাদের কোন সন্তান নেই। ভেড়াগুলো তারা স্বামী-স্ত্রী সন্তানের মত করে লালন করছেন। সংসারে কত অভাব গেছে তারপরও একটিও বিক্রি করিনি। এখন আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। এখনও অসুস্থ আছে কয়েকটি। জানিনা এগুলোর ভাগ্যে কি হয়। সর্বশেষ তাদের এমন দূর্দিনে পুলিশ যে সহযোগীতার হাত বাড়িয়েছে এটা আমাদের জন্য বিরাট বড় ব্যপার।

আরজিনার স্বামী আফজাল হোসেন বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগের সাহায্য হাতে পেয়ে বলেন,আমরা কৃতজ্ঞ। ভেড়াগুলো পালন করতে গিয়ে তারা উপজেলা পরিষদের ’একটি বাড়ি একটি খামার’ অফিস থেকে ২০ হাজার ও বিআরডিবি অফিস থেকে ৩০ হাজার ঋন নিয়েছিলেন। নিজেরা টিনে ঘেরা মাটির তৈরী ঝুঁপড়ি ঘরে বসবাস করলেও ভেড়াগুলোর থাকার জায়গা সুন্দর করেছেন। মনে করেছিলেন একবারে কিছু বিক্রি করে কোন কাজ করবেন। কিন্ত ভাগ্য আমাদের সাথে নেই। কারন কৃমির ঔষধ খাওয়ানোর পর গত ২ দিনে ১৩ টি মারা গেছে। এখন সব আশা নিরাশায় পরিণত হয়েছে। তারপরও বাংলাদেশ পুলিশ আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছে। পুলিশের বড় বড় কর্মকর্তারা আমাদের জন্য যা করলেন তা ভোলার নয়। ধন্যবাদ পুলিশ বাহিনীকে।

দ্দক্রবার দুপুরে পুলিশ বিভাগের দেওয়া অর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন, কালীগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ মাহাফুজুর রহমান মিয়া, কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জামির হোসেন, প্রথম আলোর সাংবাদিক আজাদ রহমান, প্রেসক্লাব সাধারন সম্পাদক সাবজাল হোসেন, সুন্দরপুর দূর্গাপুর ই্উপি চেয়ারম্যান ইলিয়াস রহমান মিঠু, থানার এস আই জাকারিয়া হোসেন ও রবিউল ইসলামসহ স্থানীয় গনমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।