Home সম্পাদকীয় পদ্মা সেতুতে বারবার ধাক্কা নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা?

পদ্মা সেতুতে বারবার ধাক্কা নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা?

6


নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর পিলারে অল্পদিনের ব্যবধানে গত এক মাসে চারবার ফেরির ধাক্কা লেগেছে। এ বিষয়টি নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা, তা নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন: পদ্মা সেতুর পিলারে বারবার ফেরির ধাক্কা চালকের অদক্ষতা নাকি নাশকতা তা খতিয়ে দেখা হবে।

বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে সরে গেলে এই সেতু নির্মাণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। পদ্মা সেতু নিয়ে নানা ঘটনা জাতির মনে রয়েছে। কাজেই বিষয়টি নিয়ে সেতু কর্তৃপক্ষসহ সরকার ও জনগণ সবাই চিন্তিত।


গত ২০ ও ২৩ জুলাই এবং ৯ আগস্ট যথাক্রমে পদ্মা সেতুর ১৬, ১৭ ও ১০ নম্বর পিলারে ফেরির ধাক্কা লাগে। প্রতিটি ধাক্কার ঘটনায় ফেরি চালকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং শেষের দুটি ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) পর্যন্ত করা হয়েছে। সাদা চোখে ধাক্কার বিষয়টিকে সাধারণ দুর্ঘটনা বলেই মনে হয়। আর এতে পদ্মা সেতুর পিলারেরও খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। তবে বারবার একই ঘটনা ঘটায় একে স্বাভাবিক বলে মানতে নারাজ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন প্রকৌশলী।

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ এবং নৌপথে পরিবহন খরচ অনেক কম হওয়ায় আর পদ্মা পাড়ের এলাকায় যাতায়াতের একমাত্র রুট ওই পদ্মা নদী। সেজন্য সেতু নির্মাণ চলাকালে বন্ধ রাখা যাচ্ছে না নদীপথ। গণমাধ্যমের তথ্যমতে, প্রতিদিন ইস্টার্ন রিফাইনারি ওয়েলের শত শত জাহাজ পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে আসা-যাওয়া করে। একটি ফেরির সর্বোচ্চ ওজন যেখানে মাত্র ৫০৮ টন, সেখানে তেলবাহী এসব জাহাজ তেলই পরিবহন করে ১২০০ টন। তবু কোনোদিন একটি জাহাজের দ্বারা ধাক্কা লাগেনি। কিন্তু ফেরির মাধ্যমে এই ধাক্কা লাগার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পদ্মা সেতু বাঙালির জাতির একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এই স্থাপনার নিরাপত্তা বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া জরুরি বলে আমরা মনে করি।