Home আঞ্চলিক নড়াইলে বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৯৭তম জন্ম বার্ষিকী পালিত

নড়াইলে বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৯৭তম জন্ম বার্ষিকী পালিত

7

মোঃ আবু তাহের, নড়াইল প্রতিনিধি।।


নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে নড়াইলে বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে। দিনটি পালন উপলক্ষে মঙ্গলবার (১০ আগষ্ট) সকালে জেলা প্রশাসন ও এস এম সুলতান ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এসএম সুলতান স্মৃতি কমপ্লেক্স ও শিশুস্বর্গে কোরআন খানি, শিল্পীর সমাধিতে পুস্পমাল্য অর্পন, স্মৃতিচারণ, মাজার জিয়ারত ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসন, এসএম সুলতান ফাউন্ডেশন, নড়াইল প্রেসক্লাব, জেলা শিল্পকলা একাডেমী, এসএম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, মূর্ছনা সঙ্গীত একাডেমীসহ সরকারি ও বে-সরকারি বিভিন্ন সমাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ৯টায় চিত্রশিল্পী সুলতানের সমাধিতে পুস্পমাল্য অর্পন করা হয়। চিত্রশিল্পীর ৯৭তম জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো: হাবিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, নড়াইল পৌরসভার মেয়র আঞ্জুমান আরা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: ফখরুল হাসান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানজিলা সিদ্দিকা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: রিয়াজুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে উপস্তিত ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের জেলা সভাপতি মলয় কুন্ডু, সেক্রেটারী শরফুল আলম লিটু, নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল কবীর টুকু, সেক্রেটারি শামীমূল ইসলাম টুলু, সাবেক সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ, সুলতান আর্ট কলেজের অধ্যক্ষ অনাদী বৈরাগী। বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইল শহরের মাছিমদিয়ায় জন্মগ্রহন করেন। তিনি ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক পান, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্ট আর্টিস্ট এবং ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সম্মাননা হিসেবেও স্বীকৃতি পান তিনি। সুলতানের শিল্পকর্মের বিষয়বর ছিল বাংলার কৃষক, জেলে, তাঁতি কামার, কুমার, মাঠ, নদী, হাওর, বাঁওড়, জঙ্গল, সবুজ প্রান্তর ইত্যাদি। শিল্পী সুলতানের ছবি ভারতের সিমলা, পাকিস্তানের লাহোর, করাচি, নিউইয়র্ক, বোস্টন, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়, লন্ডন, এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা
একাডেমী ও জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ঢাকায় খ্যাতনামা বিভিন্ন চিত্রশিল্পীদের সঙ্গে যৌথভাবে প্রদর্শিত হয়। ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর
চিরকুমার, অসাম্প্রদায়িক এই শিল্পী দীর্ঘদিন শ্বাসকষ্টে ভোগার পর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। নড়াইলের নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় তাকে সমাহিত করা হয়। সুলতানের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য তাঁর নিজ বাড়িতে নির্মিত হয়েছে এসএম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা।