স্টাফ রিপোর্টার ।।

জোয়ারের সময় রূপসা নদীর উপচে পড়া পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে মহানগরী খুলনার নিম্নাঞ্চল। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে সৃষ্টি হচ্ছে জনভোগান্তি। এ পরিস্থিতি চলছে মাসের পর মাস।
সাহেবখালি খালের স্লুইজ গেট জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় জোয়ারের পানি ঠেকাতে পারছেনা বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। আর কেসিসি`র কর্মকর্তারা বলছেন, রূপসা নদীর তলদেশ উচু হয়ে যাওয়ায় জোয়ারের চাপে পানি উপচে শহরে ঢুকছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জোয়ারের সময় রূপসা নদীর পানিতে নগরীর টুটপাড়া মেইন রোড, দারোগাপাড়া, আজিজুর রহমান সড়ক, গগণবাবু রোড, খান জাহান আলী রোডস্থ খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মোড়, টিবি ক্রস রোড, রূপসা স্ট্যান্ড রোড, নতুন বাজার চরবস্তি, নতুন বাজার অ্যাপ্রোচ রোডসহ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এসব এলাকার বাসাবাড়িতে জোয়ারের সময় নদীর পানির চাপে ড্রেনের পানি ঢুকে যাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে গৃহস্থালির মালামাল। অধিকাংশ বাড়ির নিচতলায় পানি ঢুকে গেছে। আসবাবপত্রের নিচে ইট দিয়ে উচু করে তার ওপর মালামাল রাখা হয়েছে। চুলায় পানি প্রবেশ করায় রান্নাবান্নায় সমস্যা হচ্ছে। বাথরুমে পানি প্রবেশ করায় পয়’নিস্কাশন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। এসব এলাকার নারী ও শিশুরা সর্দিকাশি ও পায়ের চামড়ার রোগে ভুগছেন।

এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকায় রাস্তাঘাটে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে পড়ে চলাচলরত যানবাহন প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। টুটপাড়া মেইন রোডের একটি অংশ ড্রেনে ভেঙ্গে পড়েছে।
রূপসা স্ট্যান্ড রোড এলাকার বাসিন্দা মোসা. রওশনারা বেগম জানান, তাদের বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়ির মধ্যে পানি ঢুকে গেছে। এখন সব মালামাল খাটের ওপর তুলে রেখেছেন।

গগণবাবু রোড এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. জামসেদ আলী জানান, কয়েক দিন ধরে পানিতে রাস্তা ডুবে যাচ্ছে। পানি বাড়ির মধ্যেও ঢুকে যাচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনন যদি এখনই ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে নিচু এলাকার মানুষ বেকায়দায় পড়ে যাবে।
টুটপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহিন জানান, কড়া রোদের মধ্যেও জোয়ার আসলে আমাদের এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। আর সেই সাথে বৃষ্টি হলে বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। মাসের পর মাস এই অবস্থা চলছে। আমরা শহরের মানুষ না উপকূল এলাকার বাসিন্দা পার্থক্য করতে পারিনা।

ভুক্তভোগী বাসিন্দা এবং কমিউনিস্ট পার্টির নেতা কমরেড শাহাদাৎ হোসেনের অভিযোগ, সাহেবখালী খালের স্লুইজ গেটের পাত নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে জোয়ারের আগে গেট বন্ধ করতে না পারায় এমন অবস্থা হচ্ছে।
রূপসা পাইকারি মাছ বাজার সংলগ্ন সাহেবখালি খাল স্লুইজ গেটে গিয়ে দেখা গেছে, স্থাপনাটি বহু পুরানো হওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। পিলারের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে বড় আকারের ফাটল। প্রতিদিন জোয়ারের সময় স্লুইজ গেটের পাটা বন্ধ করা এবং ভাটার সময় খুলে দেয়ার জন্য একজন কর্মচারি নিযুক্ত আছেন। তবে তিনটি পাটার পাশে রাবারের তৈরি ওয়াটার সিল বহুল ব্যবসায়ে ক্ষয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। জোয়ারের সময় পানির চাপ বাড়লে গেট উপচে ভেতরে প্রবেশ করছে।
স্লুইজ গেট তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত কেসিসির সুপারভাইজার হাফিজুর রহমান বলেন, পাটার পাশের রাবারের ওয়াটার সিল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় জোয়ারের পানি আটকানো যাচ্ছেনা। তাছাড়া স্লুইজ গেটটি অনেক পুরানো হয়ে গেছে। পিলারে ফাটল ধরেছে, ভেঙ্গে পড়েছে।

তবে স্লুইস গেটের অব্যবস্থাপনার কারণে নয়, বরং রূপসা নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে যাওয়ায় জোয়ারের পানি উপচে শহরে প্রবেশ করছে বলে দাবি করেছেন কেসিসির সহকারি কনজারভেন্সি অফিসার নুরুন্নাহার এ্যানি।
তিনি বলেন, এটা একটা বৈশ্বিক প্রাকৃতিক সমস্যা। সমুদ্র ও নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে যাচ্ছে। সে তুলনায় আমাদের জনবসতি ও লোকালয় নিচে চলে যাচ্ছে। ওইসব এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা আজকের নয়, অনেক আগের। স্লুইস গেটে কোন ত্রুটি দেখা দিলে সাথে সাথে মেরামত করা হচ্ছে।
সমস্যার সমাধানে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং কেসিসির পরিকল্পনা বিভাগ সম্মিলিতভাবে কাজ করছে বলে জানান তিনি।











































