Home আঞ্চলিক মৃত্যুহার ঊর্ধ্বমুখী : খুলনায় করোনা হাসপাতালে ঠাঁই নেই

মৃত্যুহার ঊর্ধ্বমুখী : খুলনায় করোনা হাসপাতালে ঠাঁই নেই

9

০ স্টাফ রিপোর্টার

খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে আর কোনো শয্যা খালি নেই। বর্তমানে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি রয়েছেন সেখানে। শয্যা না থাকায় ইউনিটের মেঝেতে শয্যা করা হচ্ছে। দিন দিন রোগীর সংখ্যা আরও বাড়ছে। রোগী সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক নার্সদের। খুলনা বিভাগের করোনা রোগীদের চিকিৎসায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিচতলায় ১০০ শয্যার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল করা হয়েছে। করোনা উপসর্গ নিয়ে কোনো রোগী ভর্তি হলে তাঁকে রাখা হয় ইয়োলো জোনে। পরীক্ষায় তাঁর পজিটিভ ধরা পড়লে রাখা হয় রেড জোনে। আর নেগেটিভ হলে পাঠানো হয় হাসপাতালের অন্য ওয়ার্ডে। ছাড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পজিটিভ রোগীদের ভর্তি করা হয় রেড জোনে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালের ১০০ শয্যার মধ্যে রোগী ভর্তি ছিলেন ১২৫ জন। এর মধ্যে করোনা আক্রান্ত রোগী ছিলেন ৯৫ জন (রেড জোন) করোনা সন্দেহ রোগী (ইয়োলো জোন) ছিলেন ৩০ জন। দুপুরের মধ্যে আরও জন রোগী ভর্তি হন। এর মধ্যে দুজনকে ইয়োলো জোন থেকে রেড জোনে নেওয়া হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের আইসিইউতে ১৩ জন এইচডিইউতে ১২ জন রোগী চিকিৎসাধীন।

চিকিৎসক নার্সরা বলছেন, এর আগে কখনো এত রোগী ওই হাসপাতালে ভর্তি হননি, এটাই সর্বোচ্চ। ওই পরিমাণ রোগীকে সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। যেখানে খালি জায়গা পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই রোগী রাখা হচ্ছে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই হাসপাতালে ভর্তির জন্য নিয়ে আসা হয় খুলনা নগরের শামসুর রহমান সড়ক এলাকার আবু কায়সার (৮১) নামের এক বৃদ্ধকে। তাঁর স্বজনেরা জানান, ছয় দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন আবু কায়সার। তিন দিন আগে করোনা পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ আসে। এরপর বাসাতেই চিকিৎসা চলছিল তাঁর। কিন্তু রোববার হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তির জন্য নিয়ে এসেছেন। বিধিনিষেধ আরোপের তৃতীয় দিনে নগরে পর্যাপ্ত ইজিবাইক থ্রি-হুইলার চলাচল করেছে। সেগুলোতে থেকে জন করে যাত্রী ছিল, স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই ছিল না। অন্যদিকে সকাল থেকে বিভিন্ন কাঁচাবাজারের মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

কিছুক্ষণ পরই অ্যাম্বুলেন্সে করে যশোরের অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে খুলনা করোনা হাসপাতালে ভর্তির জন্য নিয়ে আসা হয় মারুফা বেগমকে (৪৩)স্বজনেরা জানান, দিন ধরে ওই হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মারুফা বেগম। কিন্তু অবস্থা ভালো না হওয়ায় তাঁকে খুলনায় নিয়ে আসা হয়েছে। খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের মুখপাত্র খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ মেহেদী নেওয়াজ বলেন, খুলনায় করোনা হাসপাতাল হওয়ার পর একসঙ্গে ১৩০ জন রোগী ভর্তি এই প্রথম। এর আগে ১০০ রোগীর কাছাকাছি ভর্তি হয়েছে। তবে এবার যে পরিমাণ রোগী ভর্তি হচ্ছে তা আগে কখনো হয়নি। এত রোগীর চাপ সামলাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

তিনি বলেন, হাসপাতালে লজিস্টিক সাপোর্ট তুলনামূলক অনেক কম। রোগীর চাপ দেখে মনে হচ্ছে আরও একটি ইউনিট করতে হবে। চিকিৎসক নার্সের সংখ্যা বাড়াতে হবে। আর তা না হলে রোগী সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে।

চলছে ঢিলেঢালা বিধিনিষেধ

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে খুলনা মহানগরের তিনটি থানা এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এক সপ্তাহের ওই বিধিনিষেধের রোববার ছিল তৃতীয় দিন। প্রথম দুই দিন মোটামুটি বিধিনিষেধ পরিপালিত হলেও তেমনটি দেখা যায়নি। অনেকটা ঢিলেঢালাভাবে বিধিনিষেধ পরিপালিত হয়েছে।

নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বড় বড় মার্কেট বন্ধ। তবে খোলা রয়েছে বিভিন্ন গলির দোকান। ছাড়া যেসব দোকান খোলা থাকার কথা নয় সেগুলোও কোনো কোনো জায়গায় খোলা দেখা গেছে। নগরে পর্যাপ্ত ইজিবাইক থ্রি-হুইলার চলাচল করেছে। সেগুলোতে থেকে জন করে যাত্রী ছিল, স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই ছিল না। অন্যদিকে সকাল থেকে বিভিন্ন কাঁচাবাজারের মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। খুলনা জেলা প্রশাসক জেলা করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, কঠোরভাবেই বিধিনিষেধ পরিপালন করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে কেউ দোকান খুলে থাকলে তা জানার কথা নয়। তবে মানুষকে বিধিনিষেধ মানাতে জেলা প্রশাসনের আটজন ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন।