0 বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাট জেলায় গত এক সপ্তাহে (২৭ মে থেকে ৩ জুন) মোট ৩৬৯টি নমুনার করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৯টি নমুনার করোনা পজিটিভ এসেছে। শতকরার হিসাবে যা প্রায় ৪৬ শতাংশ, অর্থাৎ ১০০টি নমুনার ৪৬টিই পজিটিভ হচ্ছে। কোনো কোনো উপজেলায় শনাক্তের এই হার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত।
গত এক সপ্তাহে জেলার মোংলা উপজেলায় ১১৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। গেল ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার) জেলায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৯৮টি। তাঁদের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৫৭ জনের; যার ৩৪ জনই মোংলা উপজেলার। সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ উপজেলায়ও।
গত ২৬ মে থেকে বাগেরহাটের মোংলায় হু হু করে বেড়েছে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা। সেই ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। কয়েক দিন ধরে সেখানে শনাক্তের হার ৪০ শতাংশের ওপরে। সবশেষ নমুনা পরীক্ষায় তা ৭০ শতাংশের বেশি হওয়ায় উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য বিভাগও। ধারণা করা হচ্ছে, সমুদ্রবন্দর, ইপিজেডসহ নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ মোংলা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের করোনাভাইরাস সংক্রমণের নতুন হটস্পট হয়ে উঠছে। শনিবার রাতে মোংলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জুলফিকার আলী (৭৯) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তির বাড়ি উপজেলার গোয়ালের মেথ এলাকায়।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, ২৬ মে থেকে মোংলা উপজেলায় সংক্রমণ বাড়তে থাকে। পুরো জেলায় এখন করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসাধীন রোগী আছেন ২৬৪ জন, যার মধ্যে ৬৪ জন মোংলা উপজেলায়।
পুরো বাগেরহাট জেলার করোনা পরিস্থিতি নাজুক নয় দাবি করে তিনি বলেন, মোংলা উপজেলায় সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। পরীক্ষায় শনাক্তের হার ওঠানামা করছে। প্রথম ৩ দিন ছিল ৭০ শতাংশ। তারপর ২ দিন ছিল ৪০ শতাংশের মতো, এখন আবার ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।
বিধিনিষেধের অষ্টম দিন রোববার মোংলায় প্রশাসনের সঙ্গে দোকানি ও জনসাধারণের লুকোচুরি দেখা দেছে। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় রাস্তাঘাটে যানবাহন ও মানুষের চলাচল ছিল অনেক বেশি।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টার হিসাবে মোংলার পর বেশি আক্রান্ত পার্শ্ববর্তী মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ৯ জন। এ ছাড়া ফকিরহাটে আটজন, বাগেরহাট সদরে চারজন এবং মোল্লাহাটে দুজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বাগেরহাট জেলার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ১২ জন।
এদিকে বিধিনিষেধের অষ্টম দিন রোববার মোংলায় প্রশাসনের সঙ্গে দোকানি ও জনসাধারণের লুকোচুরি দেখা দেছে। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় রাস্তাঘাটে যানবাহন ও মানুষের চলাচল ছিল অনেক বেশি। মাস্ক ব্যবহারেও ছিল উদাসীনতা। সকাল ১০টার পর পুলিশ ও প্রশাসন মাঠে নামলে লোকজন ও যানচলাচল কমে যায়। এর আগমুহূর্ত পর্যন্ত যে যাঁর মতো দোকানপাট খুলে বসে ছিলেন।
অনেক এলাকায়ই প্রশাসনের কাউকে দেখামাত্র দোকান বন্ধ করা হলেও, তাঁরা চলে যাওয়ার পরক্ষণে দোকান খোলা হচ্ছে। কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও মানুষের মধ্যে সচেতনতায় ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় চিকিৎসকেরাও। রোববার সকালেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে পৌর শহরের জয়বাংলা এলাকায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে মোংলায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে।
মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি কমলেশ মজুমদার বলেন, সংক্রমণের হার বাড়তে থাকায় ৩০ মে থেকে শুধু উপজেলার মোংলা পোর্ট পৌরসভা এলাকায় বিশেষ বিধিনিষেধ দেওয়া হয়। পৌর এলাকায়ই সংক্রমণের হার বেশি।
ইউএনও বলেন, সামাজিক সংক্রমণরোধে শনিবার থেকে পৌরসভা ছাড়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নকেও বিধিনিষেধের আওতায় আনা হয়েছে। এর আওতায় বন্দরে আসা দেশি-বিদেশি জাহাজ ও কার্গোর কেউ তাঁদের নৌযান ছেড়ে মোংলায় প্রবেশ করতে পারবেন না। নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কাঁচামালের দোকান নির্দিষ্ট সময়ের পর খোলা রাখা যাবে না। মাস্ক পরাসহ এসব বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছেন। প্রশাসনের পাশাপাশি বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে পুলিশ, আনসার, স্বেচ্ছাসেবক ও কোস্টগার্ড কাজ করছে।










































