Home আঞ্চলিক দাকোপের বিভিন্ন নদ-নদী নিষিদ্ধ নেটজালে সয়লাব: প্রতিদিন নিধন হচ্ছে শত শত প্রজাতির...

দাকোপের বিভিন্ন নদ-নদী নিষিদ্ধ নেটজালে সয়লাব: প্রতিদিন নিধন হচ্ছে শত শত প্রজাতির মাছের পোনা

20

খুলনার উপকূলীয় দাকোপে বাগদা গোলদা চিংড়ির রেণু পোনা আহরণের প্রতিযোগীতা চলছে। শিশু নারীসহ বিভিন্ন বয়সের হাজারো মানুষ নিষিদ্ধ নেটজাল দিয়ে পোনা আহরণ করছেন। কাজিবাছা, পশুর, চুনকুড়ি, ঢাকি, কালাবগী সুতারখালী, শিপসাসহ বিভিন্ন নদী থেকে পোনা আহরণ করে থাকেন। দীর্ঘদিন যাবৎ নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রতিযোগীতা চলে আসলেও যেনো দেখার কেউ নেই।

সরেজমিন এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, প্রতি অমাবস্যা পূর্ণিমার গোনে নদীতে প্রথম ভাটা শুরু হলে তীর দিয়ে নেটজাল টেনে পূর্ব সুন্দরবনের ঢাংমারী, করমজল পর্যটন সংলগ্ন পশুর পশ্চিম সুন্দরবনের কালাবগী স্টেশন, শিবসা টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন কালাবগী সুতারখালী এবং শিবসা নদীর মোহনায় বনের কর্তন নিষিদ্ধ সুন্দর কাঁকড়া গাছের বানানো নোঙরে ভাসমান দুইটি ড্রামের মাঝে বাঁশ বেঁধে তাতে নেটজাল পেতে রেণু পোনা আহরণ করছেন। প্রশাসনের নাকের ডোগায় ডলফিনের অভয়ারণ্য এলাকায় নোঙরে সারিবদ্ধ নৌকার দৃশ্য দেখে যেনো মনে হয় এটা নৌকা বেচা কেনার হাট। ফলে সুন্দরবনের উপরও এর প্রভাব পড়ছে। আর কাজে স্থানীয় কিছু পোনা কেনা ফড়ে আড়তদার আর্থিক চুক্তিতে জেলেদের সহযোগীতা করছেন বলে একাধিক ব্যক্তির সাথে আলাপকালে জানা যায়। অনেক সময় আবার প্রশাসনের উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের আসার আগাম খবর পেয়ে সেদিন জেলেরা জাল ধরা বন্ধ রাখেন। এতে একটি রেণু পোনা আহরণ করতে গিয়ে প্রায় শতাধিক প্রজাতির মাছের পোনা নিধন করছেন অসাধু এসব জেলেরা। আর প্রতিদিন এভাবে শতাধিক প্রজাতির মাছের পোনা নিধন হওয়ায় অনেক মাছ বিলুপ্তির পথে। স্থানীয় মৎস্য বিশেষজ্ঞদের এক সমীক্ষায় জানা গেছে, প্রতিটি চিংড়ির রেণু পোনার সঙ্গে অন্য প্রজাতির অন্তত ১২০টি পোনা নিধন হচ্ছে। নেটজাল টেনে তীরে উঠিয়ে বেছে বেছে চিংড়ির রেণু পোনা রেখে অন্য পোনা ফেলে দিচ্ছে তীরে যা পরে কাকের খাবারে পরিনত হচ্ছে। এছাড়া নদীর মোহনায় পেতে রাখা জালে অসংখ্য পোনা আটকা পড়ে হাফিয়ে অধিকাংশ মারা যায় বলে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানায়। মাঝে মধ্যে আবার প্রশাসনের লোক দেখানো দুই একটি অভিযানে কিছু নেটজাল আটক করলেও কখনো থেমে নেই অবৈধ কারবার।

বাজুয়া এলাকার পরিনিতা মন্ডল জানান, পশুর নদীতে নেটজাল টেনে যে রেণু পোনা পায় তা বিক্রি করে সংসার চালান। মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে তার স্বামীরও তেমন একটা আয় না থাকায় মাঝে মধ্যে তিনিও একাজে যোগ দেন। তবে নিষিদ্ধ নেটজাল দিয়ে রেণু পোনা আহরণ করায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তার জানা থাকলেও সবাই রেণু পোনা ধরছে তাই তিনিও একাজে নিয়োজিত বলে জানান।

কালাবগী এলাকার স্থানীয় ফড়ে আড়তদার মিজানুর রহমান সানা ওরফে দুঃখে, আফছার সরদার, বক্কর গাজী, আয়ুব মোল্যা, জোবায়দুর রহমান বুলবুল, নাসির গাজীসহ একাধিক ব্যক্তির সাথে আলাপ করে জানা গেছে, তাদের প্রত্যেকের একাধিক নৌকা রয়েছেন। এসব নৌকা তাদের নেতৃত্বে চলে আসছে। বর্তমানে গোলদা চিংড়ির রেণু পোনা প্রতি পিচ টাকা বা তার বেশি বাগদার পোনা ১টাকা বা তার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে তারা জানান।   

এবিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম সুলতান বলেন, নৌবাহিনীসহ তাদের মৎস্য অফিসের একটি অপারেশনের টিম প্রতিদিন নদী থেকে নেটজাল আটক করছেন এবং তা পুড়িয়ে ফেলছেন। অভিযান অবহত থাকবে বলে তিনি জানান।

এব্যাপারে সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) আবু সালেহ জানান, তিনি নিজেও কয়েকবার অভিযানে গিয়ে নেটজাল ধারা জেলে তাড়িয়ে উঠিয়ে দিয়েছেন। স্থানীয় কিছু নেতাদের সহযোগীতায় তারা কাজ করে থাকেন বলে তিনি জানান। 

মোঃ জাহিদুর রহমান সোহাগ দাকোপ / খুলনাঞ্চল