এপ্রিলে দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে শ্রীলংকা সফরে যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। নিষেধাজ্ঞা মুক্ত হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে ফেরা সাকিব আল হাসান সিরিজটা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। ওই সময় তিনি আইপিএল খেলবেন।
জাতীয় দলের খেলা বাদ দিয়ে আইপিএল খেলার বিষয়ে সাকিব বিসিবিকে বলেন, চলতি বছরের শেষ দিকে ভারতে টি-২০ বিশ্বকাপ আছে। আইপিএলে খেললে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিটা ভালো হবে তার। দলের কাছেও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে পারবেন। বিসিবির কাছে দেওয়া চিঠিতেও কথাটা উল্লেখ করেছেন দেশসেরা ক্রিকেটার।
ওই চিঠির প্রেক্ষিতে বাধ্য হয়েই সাকিবকে আইপিএল খেলার ছাড়পত্র দিয়েছে বোর্ড। ক্ষোভও ঝেড়েছে সাকিবের ওপর। বিসিবির ক্রিকেটে অপারেশন্সের চেয়ারম্যান আকরাম খান যেমন দাবি করেছেন, সাকিব আর টেস্ট খেলতে চায় না। দু’দিন আগেও এক সংবাদ মাধ্যমের কাছে একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।
ওদিকে বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের বক্তব্য ছিল আরও এক ধাপ ওপরে। তিনি সাকিবের ছুটি মঞ্চুর করে সংবাদ মাধ্যমের কাছে ঝাল ঝেড়ে বলেন, ‘সাকিব আরও তিন বছর আগে টেস্ট ছাড়তে চেয়েছিল। আমরা নেতৃত্ব দিয়ে তাকে বেঁধে রেখেছিলাম।’ এছাড়া নতুন টেস্ট দল গঠন। বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে পরিবর্তন আনার ইঙ্গিতও দেন বিসিবি বস।
এ নিয়ে শনিবার মুখ খুলেছেন সাকিব। ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদ মাধ্যম ক্রিকফ্রেঞ্চিকে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, বিসিবি তার চিঠির ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে। তার চিঠি পুরোপুরি না পড়ে মন্তব্য করা হচ্ছে। তাকে উপস্থাপন করা হচ্ছে ভুলভাবে।
সাকিব বলেন, ‘যারা বলে বেড়াচ্ছেন আমি টেস্ট খেলতে চাই না, আমি নিশ্চিত তারা আমার চিঠি পুরোপুরি পড়েননি। আমি আমার চিঠির কোথাও বিসিবির উদ্দেশ্যে লিখিনি যে, আমি টেস্ট খেলতে চাই না। আমি লিখেছি যে, বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য আমি আইপিএল খেলতে চাই।’
বিশ্বের এক নম্বর ওয়ানডে অলরাউন্ডার বলেন, ‘বিশেষ করে আকরাম ভাই বলেই চলেছেন, আমি টেস্ট খেলতে চাই না। সম্ভবত কালও এক জায়গায় দাবি করেছেন, আমি দেশের পক্ষে আর টেস্ট খেলবো না। আমার মতে, উনি আমার চিঠেই পড়েননি। কিন্তু সবার পরিষ্কার হওয়া উচিত যে, ওই সময়ে ওয়ানডে সিরিজ থাকলেও আমি আইপিএল খেলতে চাইতাম।’
সাক্ষাৎকারে সাকিব আইপিএলের সময় শ্রীলংকা সফর রাখারও সমালোচনা করেন। তিনি জানান, আফগানিস্তান পর্যন্ত আইপিএলের সময় কোন সিরিজ রাখে না। অন্য কোন বোর্ডও এ সময় কোন সিরিজ বা টুর্নামেন্ট আয়োজন করে না। বরং ক্রিকেটারদের আইপিএল খেলার স্বাধীনতা দেয়।
এছাড়া সাকিব জানান, দেশের ক্রিকেট সঠিক পথে নেই। হাই-পারফরম্যান্স দল ছাড়া ক্রিকেটার উঠে আসার বিকল্প কোন পথ নেই। সেখান থেকে ক্রিকেটার উঠে আসছে হাতে গোনা। বিসিবি বিকল্প কিছু ভাবছেও না। এছাড়া বিসিবিতে নাজমুল হাসান পাপন ও খালেদ মাহমুদ সুজন ছাড়া ক্রিকেটের জন্য কাজ করার মতো কেউ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাকিব বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডে দেশের ক্রিকেটের জন্য কাজ করছেন এমন হাতে গোনা দুই-তিনজন আছেন। সুজন ভাই ছাড়া নাম বলার মতো কেউ নেই। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতার জন্য পাপন ভাই এবং সুজন ভাইকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। এছাড়া বলার মতো কাউকে পাচ্ছি না (হাঁসি)। এমনকি সাংবাদিকরাও খুব অল্প জায়গায় চোখ রেখে কাজ করেন। গেল পাঁচ বছরে কতজন ক্রিকেটার তৈরি করতে পেরেছি আমরা?’
-স্পোর্টস ডেস্ক










































