Home জাতীয় জিয়ার খেতাব নিয়ে সরকার নতুন সঙ্কট সৃষ্টি করেছে

জিয়ার খেতাব নিয়ে সরকার নতুন সঙ্কট সৃষ্টি করেছে

8

বরিশালে বিএনপির সমাবেশে মেজর হাফিজ

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট:

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম) বলেছেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ভারতের অভ্যন্তরে থেকে যুদ্ধ করেননি। স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্য দেশপ্রেমিক হিসেবে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন। কিন্তু সরকার তার খেতাব নিয়ে সঙ্কট সৃষ্টি করছে। দেউলিয়াত্বের তলানিতে থাকায় সরকার এই খেতাব কেড়ে নিতে চাইছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, বিএনপি কি আজ জিয়ার আদর্শ ধরে রাখতে পেরেছে? নিজেকে সেটা জিজ্ঞাসা করার সময় এসেছে। বৃহস্পতিবার বরিশালে দলের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নগরীর জিলা স্কুল মাঠে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থীদের অংশগ্রহণে ওই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে বরিশাল মহানগর বিএনপি। সমাবেশে অংশ নিয়ে দেশের ছয় সিটি করপোরেশনে বিএনপির প্রার্থীরা দলনিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানান।

মিয়ানমারের সেনাশাসনের প্রসঙ্গ টেনে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, এই সরকারের শাসনামল তো সেনাশাসন থেকেও খারাপ। কিন্তু এই জঘন্য সরকারের বিরুদ্ধে আমরা কি রাজপথে নামতে পেরেছি? ঐক্যবদ্ধভাবে জোরালো প্রতিবাদ করতে পারিনি। বক্তব্যের এক ফাঁকে মঞ্চের 

সামনে বিরতিহীনভাবে সেøাগান দেওয়া কর্মীদের ওপর বিরক্ত হন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, পল্টন ময়দানে গরম বক্তব্য দেওয়া নেতাদের দেশের দুঃসময়ে পাওয়া যায় না। সমাবেশে নেতাদের সামনে সেøাগান দেখালেও রাজপথে দেখা যায় না।

বিএনপির এই খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগ করেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই শুরু হয়েছে ইতিহাস বিকৃতি। বর্তমানে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। আজ জিয়ার খেতাব বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই খেতাব জিয়ার অর্জন। মুক্তিকামী মানুষের জন্য কোনো অর্জন কেউ কেড়ে নিতে পারে না। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। আর তার মতো মুক্তিযোদ্ধার খেতাব কেড়ে নিতে চাচ্ছে সরকার।

মেজর হাফিজ বলেন, বিএনপি আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় যাবে। এখন থেকে আন্দোলন হবে রাজপথে। বরিশালে গণআন্দোলন শুরু করতে হবে। সভায় পুলিশি বাধার অভিযোগ করে হাফিজ আহমেদ বলেন, তার নিজ জেলা ভোলা থেকেও লোক আসতে বাধা দিয়েছে পুলিশ।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিএনপির পরাজিত প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বলেন, এটা তার রাজনৈতিক জীবনে ঢাকার বাইরে প্রথম সফর। সেখানেই আমি বাধার মুখোমুখি হয়েছি। তাই এখন থেকে আন্দোলন জোরদার করতে হবে। তত্ত¡াবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে যেকোনো মূল্যে। দলনিরপেক্ষ নির্বাচন আদায় করে নিতে হবে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশালের সাবেক মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ারের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামের মেয়রপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন, খুলনার নজরুল ইসলাম মঞ্জু, রাজশাহীর মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালসহ বরিশাল মহানগর ও বিভাগের নেতারা।

পথে পথে বাধার অভিযোগ : ঢাকা থেকে গাড়িবহর নিয়ে বরিশাল যাওয়ার পথে মাওয়া ফেরিঘাটে পুলিশি বাধার অভিযোগ করেছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন। বৃহস্পতিবার ভোরে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর সোয়া ১০টার দিকে গাড়িবহর মাওয়া ফেরিঘাট পৌঁছলে পুলিশ বাধা দেয় বলে জানান ইশরাক হোসেন।

মাওয়া ঘাটে বাধা দেওয়ার পর ট্রলারযোগে মাদারীপুর শিবচরের ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ফেরিঘাটে পৌঁছে ইশরাকের বহর। তিনি অভিযোগ করেন, বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশে যাওয়ার পথে মাওয়াঘাট কর্তৃপক্ষ নির্লজ্জভাবে আমাদের গাড়িবহর আটকে দেয়।

সমাবেশ ঘিরেও ছিল পুলিশের কড়াকড়ি অবস্থান। সভাস্থলের একটি গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। আরেক গেটের সামনে ছিল পুলিশের নজরদারি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রস্তুত ছিল দুটি জলকামানও। বরিশাল শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ছিল পুলিশের কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থার পাশাপাশি সমাবেশের আশপাশের কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ।

সমাবেশে চেয়ার ছোড়াছুড়ি : সমাবেশে ইশরাক হোসেনের বক্তব্যের সময় হঠাৎই সভাস্থলে চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও হট্টগোল শুরু করে মহানগর ছাত্রদলের দুই পক্ষ। বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম রনি ও তার বিপক্ষের নেতা গোলাম মোহাম্মদ অভির গ্রæপ কমিটির দ্ব›েদ্বর জেরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। পরে সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপ শান্ত হন তারা।