Home আঞ্চলিক মাথার ওপর ঝুলছে ৮ মামলা, তবুও…

মাথার ওপর ঝুলছে ৮ মামলা, তবুও…

22

খুলনায় গাউস-মাফি গং’র মাদক ব্যবসা রমরমা

স্টাফ রিপোর্টার::

খুলনা নগরীতে গাউস ওরফে কুলি গাউস এবং মাফিজা ওরফে মাফি’র মাদক ব্যবসা চলছে রমরমাভাবে। এদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা থাকলেও বহাল তবিয়তে নগরীর বিভিন্ন এলাকায়  লোকজন দিয়ে মাদক ব্যবসা ছড়িয়ে দিচ্ছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার কতিপয় অসৎ সদস্যের সঙ্গে যোগসাজশ এবং তাদের ম্যানেজ করে চলায় গাউস-মাফি গং নির্বিঘেœ তাদের অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের রেকর্ড থেকে গাউস গং’র বিরুদ্ধে আটটি মাদক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

আলোচিত গাউস ওরফে কুলি গাউস খুলনা মহানগরীর ৫ নম্বর মাছ ঘাটস্থ সি ব্লক এলাকার আমিন উদ্দিনের ছেলে। তার দ্বিতীয় স্ত্রী’র নাম মাফিজা ওরফে মাফি। অভিযোগ রয়েছে, একাধিক স্ত্রী ও রক্ষিতা এবং অন্যান্য সহযোগ্যিদের দিয়ে গাউস নগরীতে মাদক ব্যবসার প্রসার ঘটাচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গাউসের প্রথম স্ত্রী’র নাম জোসনা বেগম। আর দ্বিতীয় স্ত্রী মাফি। এছাড়া লিপি আক্তার নামে তার একজন রক্ষিতা রয়েছে।

সূত্র বলছে, কুলি গাউস তার রক্ষিতা লিপিকে দিয়ে যশোর-বেনাপোল থেকে মাদকদ্রব্য আনা-নেয়ার কাজ করে। এছাড়া সে তাকে দিয়ে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় গাজা ও ফেনসিডিল সরবরাহ করে থাকে। তাদের ওপর সহযোগীর নাম আব্দুল হাই। সে মাফির কাছের লোক। এছাড়া অপর পার্টনার মোঃ জালাল। তাকে দিয়ে প্রতিমাসে গাউস-মাফি লাখ লাখ টাকার মাদক বিক্রি করে থাকে। অভিযোগ উঠেছে, গাউস-মাফি গং’র সঙ্গে খুলনা সদর থানা এবং নগর গোয়েন্দা পুলিশের কতিপয় অসৎ সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে। প্রতিমাসে মোটা অঙ্কের লেনদেনের মাধ্যমে তারা নগরীতে মাদক ব্যবসার প্রসার ঘটিয়ে চলেছে। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।

পুলিশের সূত্রমতে, গাউস ওরফে কুলি গাউস সর্বশেষ ২০২০ সালের ১৭ আগস্ট ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। খুলনা সদর থানার এসআই ও সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ টিপু সুলতান ৫ নং মাছ ঘাট এলাকার গ্রিনল্যান্ড জামে মসজিদের পূর্ব পাশে রিপনের স্টেশনারি দোকানের সামনে থেকে ইয়াবা বিক্রির সময় হাতেনাতে তাকে গ্রেপ্তার করে। ওই ঘটনায় টিপু সুলতান গাউসসহ তার আরও দুই সহযোগীকে আসামি করে খুলনা থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় অপর দুই আসামি হচ্ছে গাউসের সহযোগী ৬নং ঘাট কয়লার ডিপো সংলগ্ন মামুর মাজারের পিছনের সোনা মিয়ার ছেলে মোঃ জালাল ও ৫নং মাছ ঘাট গ্রীনল্যান্ড আবাসন সি ব্লকের তারা মোল্লার ছেলে আল আমিন মোল্লা।

পুলিশের রেকর্ড থেকে জানা যায়, গাউস-মাফি গং’র বিরুদ্ধে শুধুমাত্র খুলনা থানায় আটটি মাদক মামলা রয়েছে। এগুলো হচ্ছে খুলনা থানার মামলা নং ২৮, তারিখ ২০১৩ সালের ২৭ জুন। মামলা নং ৭, তারিখ ২০১৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। মামলা নং ২২, তারিখ ২০১৩ সালের ২৭ জুন। মামলা নং ২, তারিখ ২০১৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি। মামলা নং ১৮, তারিখ ২০১৩ সালের ১৭ এপ্রিল। মামলা নং ২৭, তারিখ ২০১৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। মামলা নং ১২, তারিখ ২০১৪ সালের ৭ জুন এবং মামলা নং ২২, তারিখ ২০২০ সালের ১৭ আগস্ট।

খুলনা থানা পুলিশের সূত্র ও তার একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বিএম মনিরুজ্জামান পুলিশ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন- মাদক ব্যবসায়ী গাউস ওরফে কুলি গাউস দীর্ঘদিন ধরে খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা ট্যাবলেট ক্রয়-বিক্রয় করে দেশের যুব সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এমনকি সে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত আছে মর্মে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।