সাবজাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি:
লুৎফর রহমান লাড্ডু। বয়স ৬৫ পার হয়েছে। তার পিতা ছিলেন ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের সর্বোজন শ্রদ্ধেয় ঐতিহ্যবাহী নলডাঙ্গা ভূষন হাইস্কুলের শিক্ষক মরহুম শওকত আলী। বাবার হাত ধরে ছোটবেলা থেকেই স্কুলের খেলার মাঠ চিনেছেন। এখান থেকেই শুরু শিশু থেকে যৌবন পার করে পৌছে গেছেন বৃদ্ধের কাতারে। কিন্ত এখনও তিনি খেলার মাঠ আকড়িয়েই আছেন। এখনও কালীগঞ্জ উপজেলার ক্রিড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক ও কালীগঞ্জ ক্রিড়া ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। কালীগঞ্জের সব বয়সী মানুষের কাছে তিনি আমাদের লাড্ডু ভাই হিসেবে।
সোমবার বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে তিনি স্বস্ত্রীক করোনা ভাইরাসের টিকা নিতে হাসপাতালে। নিজের টিকা নেওয়া শেষ করে অসুস্থ স্ত্রীর টিকা নেওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ করতে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শামীমা শিরিন লুবনার রুমে ঢুকতেই গালিগালাজ, দূর্ব্যবহার শুরু করেন। কোন অনুমতি না নিয়ে তার সাথে কথা বলতে গেলে এমন মানষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন লাড্ডু ভাই। শুধু এতেই খ্যান্ত হননি লাড্ডু ভাই ক্ষমা না চাইলে পুলিশে দিবেন বলে হাসপাতালে আটক করে পুলিশে দেয়ার হুমকি দেন ওই স্বাস্থকর্মকর্তা। পরে যখন লাড্ডু ভাই জানলেন উনি তার ছেলের সাথে পড়তেন শিশুতে। তখন তিনি অঝোরে কাঁদলেন।
ক্রিড়ামোদিদের ভাষ্য, যে মানুষটির ঠিকানা খেলার মাঠ তার এমন ঘটনা মুহুর্তেই ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ক্রিড়াঙ্গনে। ইতোমধ্যে বিষয়টি স্থানীয় ক্রিড়ামোদীরা আরেক জন সাবেক খেলোয়াড় বর্তমান স্থানীয় সাংসদ আনোয়ারুল আজিম আনার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূবর্ণা রানী সাহাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। এর আগেও ডাঃ শামিমা শিরিন লুবনা বিভিন্ন মানুষের সাথে একই ধরনের দূর্ব্যবহার করেও রেহাই পেয়েছেন।
লুৎফর রহমান লাড্ডু ভাই জানান, সোমবার সকালে আমি কালীগঞ্জ হাসপাতালে গিয়ে করোনার টিকা গ্রহন করি। এরপর আমার অসুস্থ স্ত্রীকে করোনার টিকা দেয়ার ব্যপারে পরামর্শ নিতে হাসপাতলের টি এইচ এর রুমে যাই। তার অফিসে প্রবেশ মাত্রই ক্ষেপে উঠেন ডাঃ লুবনা। শুরুতেই অনুমতি না নিয়ে কেন প্রবেশ করলাম সে জন্য তিনি গালি গালাজ শুরু করেন। আমি নিরবে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এক পর্যায়ে আমি বললাম আপনি ডাক্তার রোগীরা পরামর্শের জন্য তো আসবেই। আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ইউএনওর অফিস রুমে ঢুকতে অনুমতি না লাগলেও আমার অফিস রুমে ঢুকতে অনুমতি লাগে। আমাকে বাইরে বের করে দিয়েও পুলিশে দেয়ার জন্য লোক পাঠান।
পরে শুনলাম আমার সাথে দূর্ব্যবহার করা ডাক্তার কালীগঞ্জেরই মেয়ে। ছোটবেলায় আমার ছেলে মিজানুর রহমানের সাথে শিশু একাডেমিতে একসাথে লেখাপড়া করেছেন। এটা জানতে পেরে আমি কেঁদেছি। আমার ছেলে কিছুই হয়নি কিন্ত উনি মানুষের সেবা দিতে হয়েছেন ডাক্তার। আমি মনে করি কালীগঞ্জে আমার কোন শত্রু নেই। জীবনভর আমার সাথে কেউ দূর্ব্যবহার করেনি। আজকে আমি হতবাক হয়েছি। বিষয়টি আমি স্থানীয় সাংসদ ও আরেক সাবেক খেলোয়াড় বর্তমান সাংসদ আনোয়ারুল আজিম আনার ও কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূবর্ণা রানী সাহাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি।
বিষয়টি নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা শিরিন লুবনা মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিকদের তিনি জানান, অফিসে এসে কথা বলতে হবে। আমি অফিসে আছি। যেহেতু হাসপাতালে ঘটনা ঘটেছে।
ইউএনও সূবর্ণা রানী সাহা জানান, আমরা সরকারী যারা আছি তারা সকলেই জনগনের সেবক। সব মানুষেরা আমাদের অফিসে আসতে পারেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কর্তৃক লাড্ডু ভায়ের সাথে দূর্ব্যাবহারের ঘটনাটি মোটেও কাম্য নহে। তিনি এমপি মহোদ্বয়ের সাথে আলোচনা পূর্বক বিষয়টির দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের আশ^াস দেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ আনোয়ারুল আজিম আনার জানান, লাড্ডু ভাই সর্ব্বোজন শ্রদ্ধেয় ও একজন নিরীহ প্রকৃতির মানুষ। তার সাথে এমন দূর্ব্যবহার অবশ্যই জবাবদিহীতার মধ্যে আনা হবে।
উল্লেখ্য,এর আগেও কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হাসপাতালের সেবা নিতে আসা রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।











































