হেলপারের চালানো ট্রাকের আঘাতে এবার ৪ জনের অবস্থা গুরুতর
সাবজাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি
লাশের মিছিলের শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের সড়কে আবার ঘটলো মর্মান্তিক দূর্ঘটনা। এ দফায় সাত সকালে হেলপারের চালানো ট্রাকে গুড়িয়ে দিলো চায়ের স্টল। গুরুতর আহত হলেন এ স্টলে বসে থাকা ৪ জন। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকাল ৭ টার দিকে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের কালীগঞ্জ শহরের হক চিড়া মিলের সামনে।

আহতরা হলেন মধুগঞ্জ বাজারের মুশফিকুর রহমান টুটুল (৪৮) উপজেলার দয়াপুর গ্রামের ফারুক হোসেন (৪৪) দোকান মালিক দামোদারপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক (৪২) তালেশ্বর গ্রামের সাবজাল হোসেন (৫২)। খবর পেয়ে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মিরা আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে আহতদের মধ্যে মুশফিকুর রহমান টুটুল ও সাবজাল হোসেনকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ড. মামুনুর রশিদ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি খালি ট্রাক যার নাম্বার ঝিনাইদহ- ট- ১১-১৬০৮ মহাসড়ক ধরে মেইন বাসস্ট্যান্ডের দিকে আসছিল। সামনে চলমান একটি ইঞ্জিনচালিত নসিমন গাড়ীর পিছনে ধাক্কা দিয়ে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে সড়কের পাশের একটি চায়ের দোকনের ভিতর সজোরে অঘাত করে। এতে দোকানে বসে থাকা দোকান মালিকসহ ৪ জন গুরুতর আহত হয়।
প্রত্যাক্ষদর্শীরা আরো জানান,ওই ট্রাকটির হেলপার ট্রাকটি চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো। গতি বেশী থাকায় এ দূর্ঘটনাটি ঘটেছে। এর আগেও হেলপার দিয়ে গাড়ী চালানো কারণে ওই স্থানসহ কালীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে এমন ঘটনা ঘটেই চলেছে। পঙ্গুত্ববরণ করেছেন অনেকেই কিন্তু কোন প্রতিকার নেই। উল্লেখ্য মাত্র দুই দিন আগে বেপরোয়া গতির কারনে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সে শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবার ঘটলো এমন দূর্ঘটনা।

কালীগঞ্জ থানার ওসি মাহাফুজুর রহমান জানান, ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। এদিকে ট্রাকটির হেলপারের সৃষ্ট এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ৪ জনের মধ্যে হতদরিদ্র দোকান মালিক আব্দুর রাজ্জাক ও রয়েছেন। ৫ সদস্যের সংসারের তিনিই প্রধান রোজগারকারী। ধারদেনার মাধ্যমে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা খরচে চা ও খাবারের দোকান দিয়ে নানা অভাবের মধ্যে দিন কাটে তাদের। আহত আব্দুর রাজ্জাক ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের দামোদরপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে।
আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী আয়েশা খাতুন জানান, এই দোকানই ছিল তাদের সংসারের আয়ের উৎস। শহরের আব্দুর রহমানের বাসায় তারা ভাড়ায় বসবাস করেন। এদিকে রুবাইয়া,নুসরাত ও ইসরাত নামের ছোট ছোট ৩ টি কন্যা সন্তান রয়েছে তাদের। বড় মেয়ে রুবাইয়া ৩য় শ্রেণীতে, মেজো মেয়ে নুসরাত শিশু শ্রেণীতে এবং ইসরাতের বয়স মাত্র ১ বছর ২ মাস। সারাদিন দোকানে যা আয় হয় তা দিয়েই অভাব অনাটনের মধ্যে দিন কাটে তাদের। ট্রাকটি সরাসরি দোকানে আঘাত করে দোকানসহ যাবতীয় মালামাল মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। বসে থাকা অন্যদের মত তার স্বামী আব্দুর রাজ্জাকেরও মাথায় কোমরের নিচের অংশে চরম আঘাত হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন আঘাতটা বেশ জোরালো। চেতন ফিরলে পরে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখতে হবে। এখন কোথায় পাবেন স্বামীর সুস্থতার খরচ আর কি করেই বা চলবে সংসার এ কথা বলছেন আর অঝোরে কাঁদছেন স্ত্রী আয়েশা। পাশে বসে বাবার জন্য সমানে চোখের পানি ফেলছেন অবুঝ রুবাইয়া,নুসরাত। আর ছোট্র ইসরাত সবার দিকে ফ্যালফেলিয়ে চেয়ে থাকছে।











































