মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি :
যশোরের মণিরামপুরে গৃহহীনদের জন্য সরকারিভাবে ঘর নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হচ্ছে, ঘর নির্মাণে নিন্মমানের ইট ব্যবহার, ভিত (মাটি) না খুঁজে সমতলভূমিতে ইট পেতে দেওয়াল গাঁথনি ও নির্মাণ কাজে সিমেন্টবালি কম ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ভাটামালিকদের নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে কমদামে ইট বিক্রিতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে।

সোমবার (১১ জানুয়ারি) সরেজমিন উপজিলার শিরিলি এলাকায় নির্মানাধীন ঘর দেখতে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা মেলে। ওই মৌজায় ৪১টি ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। ঘরনির্মাণে অনিয়ম হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপকারভোগীরা। এরআগে মাছনা এলাকায় ঘর নির্মাণে নিন্মমানের ইট ব্যবহার হতে দেখা গেছে।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে চলছে ঘর নির্মাণের কাজ।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি ঘরের জন্য সরকার একলাখ ৭১ হাজার টাকা বরাদ্দ দিলেও সমুদয় টাকা ঘর নির্মাণের কাজে ব্যায় করা হচ্ছে না।
সরেজমিন শিরিলি মৌজায় গিয়ে দেখা যায়, ঘরনির্মাণের কাজ চলছে। ঘরের দেওয়াল গাঁথার কাজ অর্ধেক পর্যন্ত শেষ হয়েছে। পাশেই তিনস্থানে রাখা আছে নিন্মমানের কয়েক হাজার ইট। অধিকাংশ ঘরের গাঁথনির কাজে খারাপ ইট ব্যবহার করা হয়েছে। নিন্মমানের ইট ব্যবহার হওয়ায় এরআগে স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করে দেন বলে জানা গেছে।
এসময় উপকারভোগী শহিদুল ইসলাম জানান, ইট ভাল না। হাত থেকে মাটিতে ফেললেই ভেঙে যাচ্ছে।
আলমগীর হোসেন নামে অপর উপকারভোগী বলেন, ভিত খোঁচা হয়নি। কোনরকম বালি ছিটিয়ে মাটির উপর থেকে গাঁথনির কাজ শুরু হয়েছে। কেউ যেন দেখতে না পায় এইজন্য বাইরে দিয়ে চারপাশ মাটি উঁচু করে দেওয়া হয়েছে। আর সিমেন্ট বালিও ঠিকমত দেওয়া হচ্ছে না।

এভাবে ঘর করলে টিকবে না বলে অভিযোগ উপকারভোগীদের। বড় কোন ঝড় আসলে উপড়ে পড়ার আশঙ্কা তাদের। উপকারভোগীরা বলেন, এখানে নিঁচু একটি জমি আছে। বর্ষামৌসুমে পানি জমে। জমিটি মাটি ফেলে উঁচু না করে ঘর করা হচ্ছে।
ঘরগুলোর কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা তরিকুল ইসলাম বলেন, একসপ্তাহ আগে এখানে এসেছি। এরআগে দুইনম্বর ইট দিয়ে কাজ হচ্ছিল। আমি আসারপর ভাল ইট বুঝে নিচ্ছি। এখনো কিছু দুই নম্বর ইট আছে। সেগুলো ফেরত দেওয়া হবে।
এদিকে শিরিলি এলাকায় তথ্য সংগ্রহে গেলে প্রদীপদাস নামে এক ব্যক্তির তোপের মুখে পড়েন এই প্রতিবেদক। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, কোন নেগেটিভ রিপোর্ট করা যাবে না। প্রদীপের বাড়ি কাশিমনগর ইউপির লেবুগাতী গ্রামে। তার নেতৃত্বে শিরিলি এলাকার ঘরগুলোতে অনিময় হচ্ছে বলে জানা গেছে। তিনি ওই এলাকা থেকে এবার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন।
গত সপ্তাহে মণিরামপুরে ঘর নির্মাণের কাজ দেখতে আসেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৩ মুহম্মদ শাহীন ইমরান। তিনি মাছনা এলাকায় নিন্মমানের ইট দেখতে পেয়ে সেগুলো ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
এদিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মণিরামপুরের ৪২টি ইটভাটা থেকে কমদামে ইট কেনার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিগাড়ি ইট ১৪ হাজার টাকায় কেনার অভিযোগ উঠেছে। যদিও সবভাটায় একনম্বর ইট ১৭ থেকে সাড়ে ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অবৈধভাবে পরিচালিত ভাটা টিকিয়ে রাখতে মালিকপক্ষ কমদামে ইট দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ভাটাগুলো থেকে ১০-২০ হাজার করে ইট আনলেও এখনো তাদের টাকা দেওয়া হয়নি। এই নিয়ে ভাটা মালিকদের মধ্যে চাপাক্ষোভ বিরাজ করলেও তারা মুখ খুলতে পারছেন না। সম্প্রতি মণিরামপুর তিনটি ইটভাটা ভেঙে দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর। এরপর ভীতি ছড়িয়ে পড়ে ভাটামালিকদের মধ্যে। ইউএনও নিজে ১৪ হাজার টাকায় ইট কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে মণিরামপুরে ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য ২৬২টি ঘর নির্মিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম ধাপে হাজরাইল, মাছনা, শিরিলি, হরিহরনগরের মধুপুর ও পৌরসভা এলাকায় ১৮২টি ঘর নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। সব এলাকায়ই ঘর নির্মাণে নয় ছয়ের অভিযোগ রয়েছে।
শিরিলি এলাকায় মাটির উপরে ইট পেতে ঘরের দেওয়াল গাঁথনির ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু আব্দুল্লাহ বায়েজিদ বলেন, ঘরের ভিতরে ও বাইরে মাটি ফেললে ঠিক হয়ে যাবে।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, পিআইওকে সাথে নিয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাব। তিনি বলেন, ভাটা মালিকদের চাপ দেওয়া হচ্ছে না। গাড়িপ্রতি তাদের জন্য ১৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত দুইদিন ধরে সবভাটা ঘুরে মালিকপক্ষকে একনম্বর ইট দেওয়ার কথা বলেছি।











































