স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনার শৈলমারী এলাকায় নদী থেকে লবণ পানি তুলে মাছ চাষের জন্য বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ছিদ্র করে পাঁচটি পাইপ বসানোর ফলে ভয়াবহ ধস ও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই গত প্রায় ছয় মাস ধরে অবৈধভাবে এই পাইপগুলো দিয়ে পানি উত্তোলন করা হচ্ছিল। এর ফলে বাঁধের ভেতরের মাটি সরে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং ইতোমধ্যে বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়ে কৈয়া-শরাফপুর গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শৈলমারী এলাকায় সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল হকের পুরোনো ইটভাটার জমি কিনেছেন সাহস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোল্যা মাহাবুর রহমান। ওই জমিতে মাছ চাষের জন্য নদী থেকে লবণ পানি উত্তোলনে বাঁধ ছিদ্র করে পাইপগুলো স্থাপন করা হয়। সেখানে মাছ চাষ করছেন স্থানীয় কৃষক দলের নেতা গাজী সাইকুল ইসলাম। প্রতিদিন জোয়ারের সময় পাইপ দিয়ে পানি তোলার কারণে সংযোগস্থল দিয়ে পানি বাঁধের ভেতরে প্রবেশ করে তলদেশের মাটি ফাঁপা করে ফেলেছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জোয়ারের সময় খুলনার শৈলমারী রেগুলেটর সংলগ্ন জুটমিলের পাশে পাউবোর ২৭/২ নম্বর পোল্ডারের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়ে।এদিকে বাঁধের ক্ষতির পাশাপাশি নদীর লবণ পানিতে আশপাশের অর্ধশতাধিক কৃষকের ফসলি জমি ও বসতবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে আজিজ গাজী, পাপিয়া সুলতানা, মেহেদী হাসান পলাশ ও মোস্তফা গাজী জানান, লবণ পানি ঢুকে শীতকালীন সবজিসহ তাঁদের আবাদি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
জমির মালিক ও ইউপি চেয়ারম্যান মোল্যা মাহাবুর রহমান দাবি করেন, সেখানে আগে থেকেই পাইপ বসানো ছিল এবং মাছ চাষের প্রয়োজনে পানি তোলা হয়েছে। তবে ভাঙনস্থলে রাবিশ ও খোয়া ফেলে মেরামতের কাজ চলছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বাঁধে পাইপ বসানোর কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। তিনি সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের অংশ মেরামত করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান।
অন্যদিকে খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদারসহ নাগরিক নেতৃবৃন্দ প্রশ্ন তুলেছেন যে, দীর্ঘ ছয় মাস ধরে অবৈধভাবে পানি উত্তোলন করা হলেও পাউবোর নজরদারি কেন ছিল না। তাঁরা শুধু সাময়িক রাবিশ ফেলা নয়, অবিলম্বে অবৈধ পাইপ অপসারণ, বাঁধের ভূগর্ভস্থ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।











































