ঢাকা অফিস।।
আদালত প্রাঙ্গণে দেশের একটি প্রথম সারির গণমাধ্যমের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টারকে অভিনেত্রী পরীমণির গালাগাল ও হুমকি এবং তার নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কয়েকটি সংগঠন। এরমধ্যে রয়েছে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ), মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (এমআরইউ), ডিজিটাল রিপোর্টার্স ফোরাম (ডিআরএফ) এবং ইয়ুথ জার্নাল।
পৃথক বিবৃতিতে চারটি সংগঠন নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ) বিবৃতিতে বলা হয়, আদালত প্রাঙ্গণে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এমআরএ) সদস্য সাংবাদিক রবিউল হোসাইন রাজুকে প্রকাশ্যে হেনস্তা, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন।
ঘটনার ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, চিত্রনায়িকা পরীমণি সাংবাদিক রবিউল হোসাইন রাজুকে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন এবং তাকে হুমকি দিচ্ছেন। এছাড়া তার বডিগার্ডদের মাধ্যমে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
বিবৃতিতে এমআরএ সভাপতি ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘একজন সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এভাবে প্রকাশ্যে হেনস্তা, গালিগালাজ ও হুমকির শিকার হওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি শুধু একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত মর্যাদার ওপর আঘাত নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের পেশাগত নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর হুমকি।
কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা উচিত। কিন্তু প্রকাশ্যে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা বডিগার্ড দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’।
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ডিজিটাল রিপোর্টার্স ফোরাম (ডিআরএফ) বলেছে, একজন অভিনেত্রী হিসেবে পরীমণি আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ কিংবা নিরাপত্তাকর্মীদের মাধ্যমে হেনস্তার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের আহত হওয়ার ঘটনাও অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বিবৃতিতে বলা হয়, ডিআরএফ মনে করে, সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ শুধু তাদের পেশাগত মর্যাদার ওপর আঘাত নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব পালনের পরিবেশের জন্যও হুমকিস্বরূপ। ঘটনার সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
ডিআরএফ অবিলম্বে পরীমণি ও তার নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়। পাশাপাশি আহত সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করে।
সাংবাদিকদের গালিগালাজ-হুমকির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (এমআরইউ)। সংগঠনটি
এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, আহত সাংবাদিকদের যথাযথ চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলা ও হুমকির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানায়।
এছাড়া, আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের গালিগালাজ ও অপমান করার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সাংবাদিক সংগঠন ইয়ুথ জার্নাল। সংগঠনটির পক্ষ বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পরীমণির অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তা প্রমাণের আগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা কিংবা জনসমক্ষে অপমানজনক আচরণ করা ন্যায়সংগত নয়। ইয়ুথ জার্নাল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানায়।











































