Home আঞ্চলিক ছেঁড়া-ফাটা ১০-২০ টাকার নোটে খুলনায় বাড়ছে ভোগান্তি, যাত্রী-ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা

ছেঁড়া-ফাটা ১০-২০ টাকার নোটে খুলনায় বাড়ছে ভোগান্তি, যাত্রী-ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা

0


শাহ তানভীর আহমেদ।।
খুলনার বাজার, বাস ও ছোটখাটো কেনাকাটায় প্রতিদিনই লেনদেন হচ্ছে ১০ ও ২০ টাকার নোটে। কিন্তু এসব নোটের অধিকাংশই ছেঁড়া, ফাটা, ময়লাযুক্ত কিংবা জীর্ণশীর্ণ। ফলে ছোট অঙ্কের এই নোট এখন সাধারণ মানুষের জন্য বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাসে ভাড়া দেওয়া থেকে শুরু করে মুদি দোকানে কেনাকাটাÑসবখানেই ছেঁড়া নোট নিয়ে তৈরি হচ্ছে বিব্রতকর পরিস্থিতি। অনেক সময় এ নিয়ে যাত্রী, পরিবহনকর্মী ও দোকানিদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ঝগড়ার ঘটনাও ঘটছে।


বিশেষ করে নগরীর বিভিন্ন রুটের গণপরিবহনে এ সমস্যা বেশি চোখে পড়ে। বাসে ভাড়া দেওয়ার সময় কোনো যাত্রী ছেঁড়া ১০ বা ২০ টাকার নোট দিলে চালকের সহকারী অনেক ক্ষেত্রে তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। আবার পরিবহনকর্মীরা ছেঁড়া নোট গ্রহণ করলেও পরবর্তী সময়ে অন্য যাত্রী কিংবা দোকানির কাছে সেই নোট চালাতে গিয়ে পড়েন বিপাকে। একজন বাসযাত্রী বলেন, অনেক সময় মানিব্যাগে থাকা ১০ বা ২০ টাকার নোটের অবস্থা ভালো থাকে না। অন্য নোট না থাকায় বাধ্য হয়ে সেই টাকা দিতে হয়। কিন্তু বাসের সহকারী নিতে না চাইলে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সামান্য কয়েক টাকার ভাড়া নিয়ে কথা-কাটাকাটি পর্যন্ত গড়ায়।


পরিবহনকর্মীদের ভাষ্য, যাত্রীরা ছেঁড়া নোট দিলে অনেক সময় নিতে হয়। কিন্তু সেই টাকা অন্য যাত্রীকে দিলে তিনিও নিতে চান না। দোকানে কেনাকাটা করতে গেলেও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। ফলে ছেঁড়া নোট গ্রহণ করলে পরবর্তী সময়ে তা চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।


নগরীর বিভিন্ন এলাকার মুদি দোকান ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যেও এ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিনের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ১০ ও ২০ টাকার নোট। কিন্তু এসব নোটের বড় একটি অংশ এতটাই জীর্ণ যে, ক্রেতাদের কাছ থেকে নিতে চাইলেও পরবর্তী সময়ে অন্যের কাছে চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো কোনো ক্রেতা ছেঁড়া নোট দিতে চাইলে তা গ্রহণ না করায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এক মুদি দোকানি বলেন, ‘১০ ও ২০ টাকার নোটের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। অনেক নোট এমনভাবে ছেঁড়া থাকে যে, সেগুলো হাতে নিতেও ভয় লাগে। ক্রেতার কাছ থেকে না নিলে মনোমালিন্য হয়, আবার নিলেও পরে অন্য ক্রেতার কাছে দিতে পারি না। এভাবে ছোট ছোট নোট জমে থাকে।’


নগরীর রূপসা, নতুন বাজার, ডাকবাংলা, বড় বাজার, সোনাডাঙ্গা ও শিববাড়ী এলাকার খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছেও ছেঁড়া নোট নিয়ে একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানা গেছে। বিশেষ করে রিকশা ভাড়া, বাসভাড়া, চা-নাশতা, মুদি পণ্য ও দৈনন্দিন ছোটখাটো কেনাকাটায় এসব নোটের ব্যবহার বেশি হওয়ায় সমস্যা আরও প্রকট হচ্ছে। অন্যদিকে, ছেঁড়া ও জীর্ণ নোট বদলে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। অনেকে জানেন না কোথায় এবং কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নোট পরিবর্তন করা যায়। আবার ব্যাংকে গিয়ে নোট বদলাতে সময় লাগবেÑএমন ধারণা থেকেও অনেকে এড়িয়ে চলেন ব্যাংকমুখী হওয়া।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত নিয়মে ব্যাংক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত নোট পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। তবে এ সেবা সহজলভ্য করা এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করা জরুরি। পাশাপাশি বাজারে ১০ ও ২০ টাকার নতুন ও ভালো মানের নোটের সরবরাহ বাড়ানো প্রয়োজন।


খুলনার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা মনে করেন, ছোট মূল্যমানের নোটের মান ভালো না থাকলে প্রতিদিনের লেনদেনে এ ধরনের বিড়ম্বনা আরও বাড়বে। তাই দ্রুত নতুন নোট বাজারে সরবরাহ, ব্যাংকে ক্ষতিগ্রস্ত নোট বিনিময় কার্যক্রম সহজ করা এবং এ বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।