Home Lead প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফরে উজ্জীবিত তৃণমূল, নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা

প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফরে উজ্জীবিত তৃণমূল, নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা

3


স্টাফ রিপোর্টার।।


প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের খুলনা সফর ঘিরে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রত্যাশা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতিÑসব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাঁদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি উপস্থিতি, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় এবং খুলনার উন্নয়ন নিয়ে তাঁর বক্তব্য তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে।

গত ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর দিনব্যাপী খুলনা সফরে দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, বিনিয়োগসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, বাগেরহাটের কাটাখালীতে পথসভা, খুলনার ডাকবাংলা মোড়ে আকস্মিক গণপথসভা এবং খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর উদ্বোধনÑপ্রতিটি কর্মসূচিকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।


বিশেষ করে ডাকবাংলা মোড়ে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির বাইরে প্রধানমন্ত্রীর পথসভায় অংশগ্রহণ নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে। দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের আবেগের প্রতি সাড়া দিয়ে তাঁর মঞ্চে ওঠা এবং বক্তব্য দেওয়া তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু রাজনৈতিক সৌজন্য কিংবা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়; বরং খুলনাকে ঘিরে সরকারের উন্নয়ন ভাবনা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ। বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উন্নত চিকিৎসাসেবা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের আশ্বাস তাঁদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।


তৃণমূলের কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খুলনা নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মসংস্থানের সংকট তৈরি হয়েছে। তরুণদের একটি বড় অংশ কাজের সন্ধানে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এসব সমস্যার সমাধানের আশ্বাস তাঁদের আশাবাদী করেছে। তাঁরা মনে করেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে খুলনার অর্থনীতি আবারও গতিশীল হবে।


খুলনা মহানগর বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত শরিফুল ইসলাম টিপু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফর আমাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। তিনি শুধু দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গেই নয়, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার কথাও গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন। ডাকবাংলা মোড়ে তাঁর আকস্মিক উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, তিনি মানুষের কাছাকাছি থাকতে চান। আমরা আশা করি, খুলনার উন্নয়নে তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।’


মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও বিসিবির কাউন্সিলর চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন বলেন, ‘তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দলের শক্তি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে তাঁরা সংগঠনের সঙ্গে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর তাঁদের মধ্যে নতুন উৎসাহ তৈরি করেছে। এখন আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করা এবং দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা।’

মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, ‘মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে যে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা শুধু খুলনা নয়, পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। আমরা চাই, এই উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হোক।

তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হোক, বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো আবার সচল হোক।’ তার মতে, প্রধানমন্ত্রীর সফর তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সাংগঠনিক উদ্দীপনা তৈরির পাশাপাশি সরকারের প্রতি জনমানুষের প্রত্যাশাও বাড়িয়েছে। তবে এই উদ্দীপনাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে দলীয় নেতাকর্মীদের জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো, স্থানীয় সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখা এবং সরকারের উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কার্যকর সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।


সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর বিএনপির তৃণমূল রাজনীতিতে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। এখন এই উদ্দীপনাকে সাংগঠনিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা এবং খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখাই স্থানীয় নেতাকর্মীদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।