Home জাতীয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ, ১২ মেডিকেল শিক্ষার্থী হাসপাতালে

কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ, ১২ মেডিকেল শিক্ষার্থী হাসপাতালে

15

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট

রাজশাহীতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীদের ওপরে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১২ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নগরের চন্দ্রিমা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। আহত শিক্ষার্থীদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রীদের হাসপাতালের ১ নম্বর ওয়ার্ডে ও ছাত্রদের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা-২০১১ (সংশোধিত) প্রতিপালন না করায় রাজশাহীর শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজে ২০২০-২০২১ শিক্ষা বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২ নভেম্বর স্বাক্ষরিত মন্ত্রণালয়ের এ–সংক্রান্ত এক চিঠিতে এই মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানানো হয়। ওই চিঠি ৬ নভেম্বর মেডিকেল কলেজে এসে পৌঁছায়। চিঠিতে কলেজে শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন অন্য বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে মাইগ্রেশন (স্থানান্তর) করার ব্যবস্থা করার জন্য মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে।  আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সরকারি এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। ৮ নভেম্বর এক সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে শিক্ষার্থীরা প্রতারিত হয়েছেন। তাঁদের জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শুধু ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি খোলা হয়েছিল। সার্টিফিকেট বিক্রির কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে যেন আর না গড়ে ওঠে। প্রতারণার কারণে কলেজ কর্তৃপক্ষকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ওই দিনই কলেজটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাল্টা সমাবেশ করে বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। কর্তৃপক্ষও তাদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে বলে, কলেজ বন্ধ হয়ে গেলে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারাবেন। তাই যেন কলেজটি চালু রাখার ব্যবস্থা করে সরকার।

হামলার শিকার হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা জানান, শনিবার মন্ত্রণালয় থেকে কলেজ পরিদর্শনের কথা রয়েছে। এ ব্যাপারে কলেজে কী হচ্ছে, তা খোঁজ নিতে তাঁরা কলেজে এসেছিলেন। আর কিছু ছাত্রী তাঁদের জামাকাপড় নিতে হোস্টেলে ঢুকেছিলেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মেডিকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামানসহ কর্মচারীরা বাঁশ ও লোহার রড দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের পিটিয়ে আহত করেন। হামলাকারীরা ছাত্রীদের শ্লীলতাহানিও করেছেন। তাঁদের মারধরে ছাত্রীদের জামাকাপড় ছিঁড়ে গেছে। ছবি তুলতে গেলে তাঁদের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। মারধর করে তাঁদের মেডিকেল কলেজ থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তাঁরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছেন।