Home Lead ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে, অক্টোবর-নভেম্বরে ভয়াবহ ঝুঁকি

ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে, অক্টোবর-নভেম্বরে ভয়াবহ ঝুঁকি

4

ঢাকা অফিস।।

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রিয়জন হারানোর দুঃসংবাদ রোজই আসছে। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর ভিড়। শয্যা না পেয়ে মেঝে, বারান্দা ও করিডোরে চিকিৎসা নেওয়ার চিত্রও দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু মশা মারার কীটনাশক প্রয়োগ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস করার পাশাপাশি রাজধানীসহ দেশব্যাপী একযোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান জরুরি। এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস অ্যালবোপিকটাস মশার বাসস্থান ও ডিম পাড়ার স্থান ধ্বংস করতে না পারলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়।

এর মধ্যেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতির সম্ভাবনা নেই। বরং অক্টোবরে ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করার ঝুঁকি রয়েছে। শুধু ঢাকায় নয়, ঢাকার বাইরের অনেক জেলাতেও পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক, কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. কবিরুল বাশার বলেন, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতির সম্ভাবনা দেখছেন না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি ফোরকাস্টিং মডেলে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, এডিস মশার ঘনত্ব ও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় নেওয়া হয়। ওই মডেল অনুযায়ী, অক্টোবরে ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করার ঝুঁকি রয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু ঢাকায় নয়, ঢাকার বাইরেও অনেক জেলায় পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। অন্যান্য বছর নভেম্বরে ডেঙ্গু রোগী কমে গেলেও এবার তা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই এখনই টার্গেট স্পেসিফিক এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রজননস্থলকে টার্গেট করে ডেঙ্গু বা এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ফল পাওয়া যাবে না।

সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের বিষয়ে ড. কবিরুল বাশার বলেন, সিটি করপোরেশনগুলো প্রচুর কাজ করছে, কিন্তু ডেঙ্গু রোগীও বাড়ছে। একজন গবেষক ও মাঠকর্মী হিসেবে দীর্ঘ সময়ের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বুঝতে পারছেন, এডিস মশার প্রজননস্থলকে টার্গেট করে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, এডিস মশার প্রজননস্থল টার্গেট করে লার্ভিসাইডিং ও ব্রিডিং সোর্স ম্যানেজমেন্ট ব্যাপক আকারে করতে হবে। এই কাজে জনগণকে সম্পৃক্ত করা গেলে ডেঙ্গুকে নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে রাখা সম্ভব। অন্যথায় অক্টোবর মাস ঝুঁকিপূর্ণ হবে এবং নভেম্বরেও ডেঙ্গু রোগী অনেক বেশি থাকবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে প্রতি শনিবার সাপ্তাহিক ক্লিনিং ডে পালন এবং নিয়মিত বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে চিরুনি অভিযান চলছে। পাশাপাশি ১২ দিনব্যাপী বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপ ২০২৬ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে তথ্যভিত্তিক ওষুধ ছিটানো হবে।

অন্যদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রতি শনিবার বিশেষ মশক নিধন অভিযান এবং ‘শনিবারের অঙ্গীকার, বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম মিল্টন।

তিনি বলেন, উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিদিন সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। নিরাপদ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে তারা বদ্ধপরিকর।

এদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ যতটা হওয়ার আশঙ্কা ছিল, তার তুলনায় কম হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, ‘সবাইকে সম্পৃক্ত করে উদ্যোগ নেওয়ায় বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার আক্রান্তের হার কম।’