Home খেলাধুলা ৪২ বলে সেঞ্চুরি আইয়ারের, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সহজেই হারাল ভারত

৪২ বলে সেঞ্চুরি আইয়ারের, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সহজেই হারাল ভারত

2

স্পোর্টস ডেস্ক।।

অধিনায়ক হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন শ্রেয়াস আইয়ার। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে দলকে এনে দিলেন দাপুটে জয়।

অন্যদিকে অভিষেকেই বল হাতে তিন উইকেট নিয়ে নিজের আগমনের জানান দিলেন নমান ধীর। দুজনের নৈপুণ্যে মঙ্গলবার প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে ভারত।

টস জিতে আগে বোলিং করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৭১ রানে আটকে দেয় ভারত। অফ স্পিনে ৩১ রানে ৩ উইকেট নেন অভিষিক্ত ধীর।

কুলদীপ যাদব পান ২ উইকেট। জবাবে ১৪.৪ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত। শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি তাদের। ৩৫ রানেই ফিরে যান দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসন।

তৃতীয় ওভারে রস্টন চেজের বলে শিমরন হেটমায়ারের দুর্দান্ত ক্যাচে ২১ রানে ফেরেন অভিষেক। পরের ওভারেই সঞ্জু স্যামসনও বিদায় নেন। আকিল হোসেনের বলে নিজের বোলিংয়েই ক্যাচ নেন বাঁহাতি এই স্পিনার। এশিয়ান গেমসের পর থেকেই সঞ্জুর ব্যাটে চলা মন্দা আরও দীর্ঘ হলো।

এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেন আইয়ার ও ঈশান কিষান। তৃতীয় উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন ১৩৭ রানের জুটিতে সহজ হয়ে যায় ভারতের জয়।

আইয়ার ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। মাঠের চারপাশে দারুণ সব শটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের ওপর চড়াও হন তিনি। অন্য প্রান্তে ঈশান খেলেছেন অনেকটা সহায়কের ভূমিকায়।

১০ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ১০২ রান। এরপর আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন আইয়ার। একাদশ ওভারে শামার স্প্রিংগারের বলে লং-অফের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান তিনি।

এরপর আকিল হোসেনকে লং-অফ দিয়ে ছক্কা মেরে পরের বলেই একই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে চার হাঁকান আইয়ার। এরপর একের পর এক চার-ছক্কায় দ্রুত এগিয়ে যান সেঞ্চুরির দিকে।

রস্টন চেজের বলে লং-অনের ওপর দিয়ে সোজা ছক্কা মেরে মাত্র ৪২ বলে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন আইয়ার। শেষ পর্যন্ত ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন ভারতীয় অধিনায়ক। ঈশান অপরাজিত থাকেন ৩৭ রানে।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ঝড়ো করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শাই হোপ। দ্বিতীয় ওভারে মায়াঙ্ক যাদবকে টানা চারটি চার মারেন তিনি। হোপের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের কারণে তৃতীয় ওভারেই মায়াঙ্ককে সরিয়ে অক্ষর প্যাটেলকে আক্রমণে আনেন আইয়ার।

এরপর ভারতকে প্রথম সাফল্য এনে দেন আর্শদীপ সিং। তার পিচ-আপ ডেলিভারিতে বোল্ড হন কামিল পুরান।

ষষ্ঠ ওভারে রানআউট হয়ে ফেরেন হেটমায়ার। অপ্রয়োজনীয় এক রান নিতে গিয়ে উইকেট হারান তিনি। একই ওভারে রোভম্যান পাওয়েলকেও ফিরিয়ে দেন অক্ষর। বড় শট খেলতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন পাওয়েল।

এরপর শেরফান রাদারফোর্ডের ব্যাটে গতি পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস। ৩৪ বলে ৫৬ রানের ঝোড়ো ইনিংসে তিনি মারেন একাধিক চার-ছক্কা। নবম ওভারে কুলদীপকে দুটি ছক্কা এবং একাদশ ওভারে অক্ষরকে দুটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান বাঁহাতি এই ব্যাটার।

রাদারফোর্ডের আগমনের পর কিছুটা ধীর হয়ে যাওয়া হোপ ৩৭ বলে ৫২ রান করে ১২তম ওভারে আউট হন। অভিষিক্ত ধীরের বলে অক্ষর প্যাটেলের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।

এরপর রস্টন চেজকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান কুলদীপ। ১২.৩ ওভারে ৫ উইকেটে ১১৪ রানে পরিণত হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

রোমারিও শেফার্ড কুলদীপকে ছক্কা হাঁকানোর পর ধীর আবারও আঘাত হানেন। লং-অফে তিলক ভার্মার ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন শেফার্ড।

এরপর রাদারফোর্ডের ইনিংসও থামিয়ে দেন কুলদীপ। ডিপ মিডউইকেটে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন ঈশান কিষান।

শামার স্প্রিংগারকে ফিরিয়ে অভিষেকেই নিজের তৃতীয় উইকেট তুলে নেন ধীর। আগের বলে ছক্কা মারার পর পরের বলে উঁচু করে খেলে অক্ষর প্যাটেলের হাতে ক্যাচ দেন স্প্রিংগার।

চোট কাটিয়ে দলে ফেরা মায়াঙ্ক যাদব এদিন খুব একটা ছন্দে ছিলেন না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের কাছে বেশ কয়েকবার মার খেলেও শেষ দিকে একটি উইকেট পান তিনি। রাদারফোর্ডকে ডিপ স্কয়ার লেগে ধীরের ক্যাচে পরিণত করেন মায়াঙ্ক।

শেষ পর্যন্ত আকিল হোসেনকে আউট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস গুটিয়ে দেন অক্ষর। লং-অনে ঈশান কিষানের হাতে ক্যাচ দেন আকিল।