ঢাকা অফিস।।
পরবর্তী দ্বিপক্ষীয় সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের তারিখ প্রায় চূড়ান্ত। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। মানবজমিনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র। সবকিছু ঠিক থাকলে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬শে অক্টোবর টোকিওর উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন তারেক রহমান। সফরসূচি নিয়ে ঢাকা-টোকিওর মধ্যে আলোচনা চলছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সফরটি চারদিনের হতে পারে। এটি প্রধানমন্ত্রীর তৃতীয় দ্বিপক্ষীয় সফর হতে যাচ্ছে। এর আগে গত জুনে দুই দেশ সফর করেন তারেক রহমান। সরকারপ্রধান প্রথমে মালয়েশিয়া এবং পরে সেখান থেকে চীন সফর করেন।
ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন তারেক রহমান। নির্বাচিত হওয়ার পরপরই জাপানের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এরপর এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে জাপানের চারজন উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ঢাকা সফর এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এপ্রিলের শেষ দিকে ঢাকায় আসেন জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও দেশটির কৃষি, বন ও মৎস্যমন্ত্রী সুজুকি নরিকাজু। জুলাইয়ের শুরুতে ঢাকায় আসেন জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় মন্ত্রী শিমাদা তোমোআকি ও জাইকার প্রেসিডেন্ট তানাকা আকিহিকো। সর্বশেষ জুলাইয়ের শেষে ঢাকা সফর করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা। তারা সবাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং জাপান সরকারের পক্ষ থেকে সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন।
এ ছাড়া গত ১২ই আগস্ট বাংলাদেশ ও জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ওই সংলাপেও প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর নিয়ে আলোচনা হয়। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তার সফরের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়ে আসছে টোকিও। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জাপানের এই আগ্রহ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অবশ্য ঢাকা-টোকিও সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রক্রিয়া শুরু হয় চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গেও টোকিওর সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল। তবে গত বছরের জুলাইয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাপান সফরের মধ্যদিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। সে সময় জাপানের সঙ্গে জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতসহ সাতটি সমঝোতা স্মারক সই করে বাংলাদেশ। এ ছাড়া পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে এক লাখ দক্ষ জনশক্তি নেয়ার বিষয়ে দুই সরকার একমত হয়।
সেই সফরের সময় জাপান জানিয়েছিল, ‘বে-অব বেঙ্গল’ উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়নসহ জাপানি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ সমপ্রসারণে সহযোগিতা জোরদার করবে তারা। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে বিনিয়োগ সমপ্রসারণ, ব্যবসায়ীদের সম্মেলন আয়োজন এবং জনশক্তি রপ্তানির অগ্রগতি পর্যালোচনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।










































