Home জাতীয় এলপিজির দাম বাড়ল, ভোক্তার পকেট কাটছে আরও বেশি

এলপিজির দাম বাড়ল, ভোক্তার পকেট কাটছে আরও বেশি

9

ঢাকা অফিস।।

দেশে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহে ঘাটতি চলছে। এর মধ্যে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।

তবে দাম বাড়ানোর পরও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও দেশের কয়েকটি জেলার খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। ভোক্তাদের অভিযোগ, বাসাবাড়িতে পাইপলাইনের গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া কিংবা অনেক এলাকায় গ্যাস না থাকায় রান্নার জন্য এলপিজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। এই সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী ইচ্ছামতো দাম নিচ্ছেন।

বিইআরসি রবিবার (৪ অক্টোবার) নতুন দাম ঘোষণা করে। এর আগে ১২ কেজির সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু সরবরাহ সংকটের কারণে বাজারে তা ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। নতুন দাম রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে। এখন প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা। অটোগ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা।

রাজধানীর জোয়ার সাহারার বাসিন্দা খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, দাম নির্ধারণের পর সিলিন্ডার কিনব বলে অপেক্ষা করছিলাম। কিনতে এসে দেখি ৬০০ টাকা বেশি চাচ্ছে। আমরা নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছি।

মিরপুরের বাসিন্দা মামুন আবদুল্লাহ বলেন, মাসখানেক আগে কেনা সিলিন্ডার শেষ হওয়ায় নতুন করে কিনতে যাই। দোকানি ২ হাজার ৫০০ টাকা দাম চেয়েছেন। এর চেয়ে এক টাকাও কমানো যাবে না বলে জানিয়ে দেন তিনি।

মেরুলের বাসিন্দা মনোজ কুমার বলেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে। সংসারের ঝামেলার সঙ্গে এমন উৎপাত আর নিতে পারছি না।

এলপিজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে প্রায় এক কোটি মানুষ এলপিজি ব্যবহার করেন। এর ৮০ শতাংশই রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। এলপিজির ৯৯ শতাংশ আমদানি করে বেসরকারি খাত। তবে গত দুই মাসে আমদানি কমেনি।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) জানিয়েছে, আগস্টে ১ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন এবং সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে।

তাহলে সরবরাহ কমল কেন—এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। ব্যবসায়ীদের একটি অংশের দাবি, ২০ সেপ্টেম্বর থেকে কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমাতে শুরু করে। প্রথমে প্রায় ৩০ শতাংশ কমানো হলেও পরে তা ৫০ শতাংশের বেশি হয়। বিভিন্ন ডিপোতে ডিলারদের ট্রাক দিনের পর দিন অপেক্ষা করায় পরিবহণ ব্যয়ও বেড়ে যায়।

রাজধানীর বাইরে একই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

নারায়ণগঞ্জের এক ব্যবসায়ী বলেন, তার কাছে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির সিলিন্ডার রয়েছে। সেটির দাম ২ হাজার ২০০ টাকা। নিতে চাইলে নিতে হবে, না হলে নেই।

সাভারের এক খুচরা ব্যবসায়ী জানান, তার কাছে বর্তমানে কোনো সিলিন্ডার নেই। পরদিন বিকালে যোগাযোগ করতে বলেছেন তিনি।

মোহাম্মদপুরের খুচরা ব্যবসায়ী কামাল বলেন, গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। মালের রেট বেশি। বেশি দাম দিয়ে আমাদের কিনতে হয়। সরকারি দামে বিক্রি করা সম্ভব নয়।

সরবরাহ সংকটের কারণ খতিয়ে দেখতে ১২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে পুরো মাসের দৈনিক আমদানি ও সরবরাহের তথ্য দিতে চিঠি দিয়েছে বিইআরসি। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে তথ্য দিয়েছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে মজুতের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাই করা হবে। তার আশা, সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হবে।

এদিকে লোয়াব সভাপতি আমিরুল হকও সরবরাহ বাড়ার আশা প্রকাশ করেছেন। আমদানিকারকদের কয়েকজন জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে জাহাজ ভাড়া বাড়লেও আমদানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা নেই।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলমের দাবি, পর্যাপ্ত আমদানির পরও বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। তার মতে, সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বাজারে দামও কমে আসার কথা।

খাতসংশ্লিষ্টদের আশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ বাড়লে বাজারে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার প্রবণতাও কমে আসবে।