স্পোর্টস ডেস্ক।।
ক্রোয়েশিয়াকে রীতিমতো ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে ইংল্যান্ড। রিয়েকায় থমাস টুখেলের দল ৭-০ গোলে জয় পেয়েছে। নেশনস লিগের গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচের দুটিতে জয় তুলে নিয়ে দারুণ অবস্থানে পৌঁছেছে ইংল্যান্ড।
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে জাতীয় দলের হয়ে তার গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯-এ। তবে বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকারই কেবল আলো ছড়াননি। পুরো দলই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে।
আর্সেনালের উইঙ্গার বুকায়ো সাকাও জোড়া গোল করেছেন। টুখেল দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় জয়।
রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার জুড বেলিংহামও গোল করেছেন। মঙ্গলবার চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচে একাদশের বাইরে থাকার পর এদিন আবার শুরু থেকেই মাঠে নামেন তিনি। তিনটি গোলে সহায়তা করার পাশাপাশি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখেন বেলিংহাম।
প্রাণবন্ত পারফরম্যান্স করা অ্যান্থনি গর্ডনও গোলের দেখা পেয়েছেন। ইংল্যান্ডের হয়ে শেষ চার ম্যাচে এটি তার চতুর্থ গোল। পরে মর্গান রজার্স গোল করে ক্রোয়েশিয়ার পরাজয়কে আরও বড় করে দেন।
নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করতে গ্রুপের শীর্ষ দুইয়ের মধ্যে থাকতে চাইছে ইংল্যান্ড। আন্তর্জাতিক বিরতির শেষ ম্যাচে মঙ্গলবার ওয়েম্বলিতে চেক প্রজাতন্ত্রের মুখোমুখি হবে তারা।
ওয়েম্বলির ম্যাচটি রিয়েকার ম্যাচের চেয়ে অনেক বেশি প্রাণবন্ত হওয়ার কথা। কারণ ২০২৫ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার সমর্থকদের বিশৃঙ্খলার কারণে এদিনের ম্যাচটি দর্শকশূন্য মাঠে আয়োজন করা হয়েছিল।
তবে স্থানীয় প্রায় ছয় হাজার স্কুলশিক্ষার্থী ও ইংল্যান্ডের ১০০ সমর্থককে স্টেডিয়াম এইচএনকে রিয়েকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ফলে প্রতিপক্ষের মাঠে সাধারণত যে উত্তপ্ত পরিবেশ থাকে, তার ছিটেফোঁটাও ছিল না।
সপ্তাহের শুরুতে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা কাছের অ্যাড্রিয়াটিক সাগরে নেমে আনন্দ করেছিলেন। এরপর টুখেল সতর্ক করে দিয়েছিলেন, দলের স্বস্তির পরিবেশ যেন তাদের ‘ছুটির মেজাজে’ নিয়ে না যায়।
তবে স্টেডিয়ামের মাত্র কয়েক গজ দূরে সূর্যের আলোয় ঝলমল করা অ্যাড্রিয়াটিক সাগর যেন ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের জন্য কোনো বিভ্রান্তিই তৈরি করতে পারেনি। বরং বয়সী ক্রোয়েশিয়াকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়ে স্বাগতিক দর্শকদের হতাশ করেছে টুখেলের দল।
মাত্র আট মিনিটেই এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। দ্রুত ও নিখুঁত এক আক্রমণে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে দুই দলের সামর্থ্যের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ইংল্যান্ডের হয়ে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে থাকা বোর্নমাউথের মিডফিল্ডার অ্যালেক্স স্কট ছিলেন আক্রমণের সূচনাকারী। ঠান্ডা মাথায় বেলিংহামের দিকে বল বাড়িয়ে দেন তিনি।
বেলিংহামও দারুণ বুদ্ধিমত্তায় ক্রোয়েশিয়ার অগোছালো রক্ষণভাগের পেছনে বল পাঠান। কেইন বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মাত্র ১০ গজ দূর থেকে নিখুঁত শটে গোলের ছাদে পাঠান।
গতি ও নিয়ন্ত্রণে ক্রোয়েশিয়ার চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। ২১ মিনিটে ২৭ পাসের দুর্দান্ত আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বেলিংহাম।
সাকার বাড়ানো বল সতীর্থদের মাথার ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছিল। তবে গর্ডন অসাধারণ দক্ষতায় বাতাসে বলটি নিয়ন্ত্রণ করে আবার ছয় গজ বক্সে পাঠান। সেখানে বেলিংহাম লম্বা হয়ে পা বাড়িয়ে বলটি দূরের কোণে পাঠিয়ে দেন।
৩৯ মিনিটে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় ইংল্যান্ড। জ্যারেল কুয়ানসার নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন গর্ডন। ছয় গজ দূর থেকে তার শট ঠেকানোর কোনো সুযোগই ছিল না গোলরক্ষক দমিনিক লিভাকোভিচের।
কুয়ানসার এই সহায়তা ছিল সমালোচকদের জন্যও জবাব। চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের আগের ম্যাচে প্রায় দুই বছর পর প্রথমবার একাদশে জায়গা পাওয়া ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডকে বাদ দিয়ে কুয়ানসাকে খেলানোয় টুখেলের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
জুনে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে এবার ম্যাচটি ছিল আরও একপেশে।
বেলিংহাম তখন দুর্দান্ত ছন্দে। ক্রোয়েশিয়ার বক্সে ঢুকে লুকা মদরিচকে বোকা বানিয়ে দারুণভাবে বল পেছনে টেনে নেন তিনি। এরপর নিচু ক্রস বাড়ান সাকার দিকে। বিরতির ঠিক আগে কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে ইংল্যান্ডকে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন সাকা।
বিরতির পরও কোনো দয়া দেখায়নি ইংল্যান্ড। ৫৩ মিনিটে আবারও গোল করেন কেইন। অ্যান্ডারসনের বাড়ানো বলের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে সহজেই জালে পাঠান ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
৬৮ মিনিটে কেইনের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন সাকা। ক্রোয়েশিয়ার আরও একটি ভয়াবহ ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে পাঠান তিনি।
শেষ পর্যন্ত ৮৭ মিনিটে বেলিংহামের পাস পেয়ে বদলি হিসেবে নামা মর্গান রজার্স গোলরক্ষক লিভাকোভিচকে কাটিয়ে বল জালে পাঠান। তাতে টুখেল যুগের সবচেয়ে বড় জয় নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের।








































