মিলি রহমান।।
তীব্র রোদে দীর্ঘ সময় থাকলে সূর্যের অতিবেগনি রশ্মির প্রভাবে ত্বকে রোদে পোড়া, কালচে দাগসহ নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। এ কারণে বাইরে বের হওয়ার আগে অনেকে সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন। তবে বাজারের সানস্ক্রিন ব্যবহারে কারও কারও ত্বকে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
এ কারণে ঘরোয়া উপাদান দিয়ে তৈরি বিভিন্ন মিশ্রণ ব্যবহারের পরামর্শ পাওয়া যায়। তবে এসব মিশ্রণকে বাজারের পরীক্ষিত সানস্ক্রিনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করার আগে সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে সূর্যের অতিবেগনি রশ্মি থেকে কতটা সুরক্ষা পাওয়া যাবে, তা ঘরে তৈরি মিশ্রণে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
শিয়া বাটার ও কোকো বাটার
এ মিশ্রণ তৈরিতে লাগবে ২ চামচ শিয়া বাটার, ১ চামচ কোকো বাটার, ১ চামচ ভিটামিন-ই তেল ও ১ চামচ রাস্পবেরি বীজের তেল। শিয়া বাটার ও কোকো বাটার হালকা আঁচে গলিয়ে কিছুটা ঠান্ডা করে নিতে হবে। এরপর ভিটামিন-ই তেল ও রাস্পবেরি বীজের তেল মিশিয়ে ফ্রিজে রেখে জমিয়ে নেওয়া যায়।
তবে এ ধরনের মিশ্রণ ত্বক আর্দ্র রাখতে সাহায্য করলেও এর নির্দিষ্ট সূর্য সুরক্ষা মাত্রা নিশ্চিত নয়।
তিলের তেল ও গ্লিসারিন
৩ চামচ তিলের তেল, ১ চামচ গ্লিসারিন ও আধা কাপ পানি দিয়ে এই মিশ্রণ তৈরি করা যায়। সব উপাদান পরিষ্কার একটি স্প্রে বোতলে নিয়ে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে মিশিয়ে নিতে হবে। ব্যবহারের আগে প্রতিবার বোতলটি ঝাঁকিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
তবে শিশুদের ত্বকে বা মুখে এ ধরনের ঘরোয়া মিশ্রণ ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
নারিকেল তেল, অ্যালোভেরা ও জিঙ্ক অক্সাইড
আধা কাপ নারিকেল তেল হালকা গরম করে তাতে আধা কাপ অ্যালোভেরা জেল মেশানো যায়। মিশ্রণটি ঠান্ডা হলে ২ চা চামচ জিঙ্ক অক্সাইড পাউডার ধীরে ধীরে মিশিয়ে ক্রিমের মতো তৈরি করা হয়।
তবে জিঙ্ক অক্সাইডের পরিমাণ, মিশ্রণের সমানভাবে ছড়িয়ে পড়া এবং সূর্য সুরক্ষার কার্যকারিতা ঘরে নিশ্চিত করা কঠিন। তাই এটিকেও পরীক্ষিত সানস্ক্রিনের বিকল্প হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
ব্যবহারে সতর্কতা
যেকোনো ঘরোয়া মিশ্রণ ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে অল্প পরিমাণ লাগিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। জ্বালা, চুলকানি, লালচে ভাব বা অন্য কোনো অস্বস্তি হলে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
তীব্র রোদে বাইরে গেলে ছাতা, টুপি ও ঢিলেঢালা পোশাক ব্যবহার করাও উপকারী। ত্বককে সূর্যের অতিবেগনি রশ্মি থেকে সুরক্ষিত রাখতে হলে পরীক্ষিত ও উপযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করাই তুলনামূলকভাবে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।









































