Home আঞ্চলিক আদালতে হাজিরা দিতে এসে অপহরণ-চাঁদাবাজির অভিযোগ, আতঙ্কে বিচারপ্রার্থীরা

আদালতে হাজিরা দিতে এসে অপহরণ-চাঁদাবাজির অভিযোগ, আতঙ্কে বিচারপ্রার্থীরা

8


সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।

ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে আসা বিচারপ্রার্থীদের ঘিরে সাতক্ষীরা আদালত এলাকায় অপহরণ, ভয়ভীতি দেখানো ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মামলার ধার্য তারিখে আদালতে হাজিরা দিতে আসা কয়েকজনকে কৌশলে বাইরে ডেকে নিয়ে গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে পরিবারের সদস্যদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক আইনজীবী। বিশেষ করে রাজনৈতিক মামলার কয়েকজন আসামি এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে দাবি তাদের।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাতক্ষীরা আদালতের একাধিক আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সম্প্রতি কয়েকজন মক্কেল হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়ে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। আবেদন নামঞ্জুর হলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। পরে জামিনে মুক্তি পান তারা।
আরও পড়ুন

আইনজীবীদের দাবি, গত ২০ সেপ্টেম্বর জিআর-১৬২/২৪ নম্বর মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে আসা কয়েকজন বিচারপ্রার্থীকে আদালত চত্বর থেকে কৌশলে ডেকে বাইরে নেওয়া হয়। পরে আদালতের বাইরের প্রধান সড়কসংলগ্ন একটি বেকারি ও কনফেকশনারিতে নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে গাড়িতে তুলে অন্যত্র আটকে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন নিজেদের একটি যুব সংগঠনের নেতা-কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের ভাষ্য, আটকে রাখা ব্যক্তিদের দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ফোন করিয়ে গুমের ভয় দেখানো হয় এবং মুক্তির বিনিময়ে টাকা দাবি করা হয়। তাদের দাবি, একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার পর দুই দিন পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্য এক উপজেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নেওয়ার পর প্রায় আড়াই দিন পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। এ ছাড়া এক শ্রমিক সংগঠনের নেতার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

আইনজীবীদের আরও দাবি, প্রায় দেড় মাস আগে আদালতের ভেতরের পার্কের দক্ষিণ পাশ থেকে কালীগঞ্জ এলাকার এক বিচারপ্রার্থীকে তুলে নেওয়া হয়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে মারধর করে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। তবে এ ঘটনার বিষয়েও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বিচারপ্রার্থীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে দাবি আইনজীবীদের। আবার আদালতে এলে তুলে নেওয়া বা হামলার আশঙ্কায় কেউ কেউ সরাসরি হাজির না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করছেন বলেও জানান তারা। আশাশুনি, কালীগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার আরও কয়েকজন বিচারপ্রার্থী একই ধরনের আতঙ্কে রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইনজীবীরা আরও বলেন, এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের কয়েকজনকে বিভিন্ন সময়ে আদালত চত্বর ও আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। তবে ভুক্তভোগীরা প্রতিশোধ বা পুনরায় হামলার আশঙ্কায় সরাসরি অভিযোগ করতে ভয় পাচ্ছেন বলেও দাবি তাদের।

সাতক্ষীরা জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা অ্যাডভোকেট আকবর আলী বলেন, বিষয়টি শুনে তিনি উদ্বিগ্ন হয়েছেন। আদালতে গিয়ে এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে এবং সহকর্মী আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। অপহরণ বা চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে অভিযোগে যাদের নাম আসছে, তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহীদুর রহমান বলেন, এ ধরনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। বিষয়টি পুলিশের নজরে আসার পর খোঁজখবর নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।