স্পোর্টস ডেস্ক ।।
২০ বছর পর আবারও ইতালির মুখোমুখি জিনেদিন জিদান। তবে এবার আর খেলোয়াড় হিসেবে নয়। ফ্রান্সের কোচ হিসেবে ইতালির বিপক্ষে মাঠে নামবেন তিনি।
২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই ঘটনা এখনো ফুটবলপ্রেমীদের মনে জ্বলজ্বল করছে। বার্লিনের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে ইতালির ডিফেন্ডার মার্কো মাতেরাজ্জির বুকে মাথা দিয়ে আঘাত করেছিলেন জিদান। লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাকে। সেটিই হয়ে যায় তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ।
দুই দশক পেরিয়ে গেলেও সেই হেডবাট এখনো ফুটবলের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। জিদানও জানেন, সেই ছবি তাকে এখনো তাড়া করে।
বৃহস্পতিবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে জিদান বলেন, ‘ছবিগুলো আমাকে সব সময় ঘটনাটির কথা মনে করিয়ে দেয়। বারবার সেগুলো দেখানো হয়। তবে সৌভাগ্যবশত, আমি শুধু ওই কাজটিই করিনি। আমার আরও সুন্দর কিছু ছবিও আছে।’
তবে সেই ঘটনার জন্য এখনো অনুশোচনা নেই জিদানের,‘এটা কোনো অনুশোচনার বিষয় নয়। এটা আমার ক্যারিয়ারের অংশ। যা ঘটেছিল, তার জন্য আমি গর্বিত নই। তবে সব সময় তো ভালো কাজ করা সম্ভব নয়। আমরা সবাই জীবনের একটা পথচলার মধ্যে থাকি। কখনো কখনো এমন কিছু করে ফেলি, যা সেরা সিদ্ধান্ত নয়। এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো তারপর কী হবে।’
২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আর কখনো খেলেননি জিদান। তখন তার মনে হয়েছিল, ফ্রান্সের হয়ে শেষ ম্যাচের সেই ঘটনাই হয়তো তাকে মনে রাখার একমাত্র কারণ হয়ে থাকবে।
ফরাসি কোচ বললেন,‘হ্যাঁ, কারণ তখন আমি জানতাম না যে একদিন ফ্রান্সের কোচ হব। তাই আমার কাছে সেটিই ছিল শেষ। বলতে পারি, সময়টা খুব, খুব কঠিন ছিল।’
তবে সেই গল্প সেখানেই থামেনি। এবার ফ্রান্সের কোচ হিসেবে ফিরেছেন জিদান। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দুটি ম্যাচেই জয় পেয়েছেন। তুরস্কের বিপক্ষে ১–০ এবং বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১–০ ব্যবধানে জিতেছে ফ্রান্স।
শুক্রবার ইতালির বিপক্ষে ম্যাচটি হবে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে নিজেদের মাঠে জিদানের প্রথম ম্যাচ। ইউয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচটি হবে স্তাদ দ্য ফ্রান্সে।
ম্যাচটি নিয়ে জিদান বলেন, ‘এটি খুব আবেগের মুহূর্ত। তৃতীয় ম্যাচের জন্য আমরা প্রস্তুত। ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। বিশেষ কোনো সমস্যা নেই। সমর্থকদের সামনে আমরা জিততে চেষ্টা করব।’
ফ্রান্সের অধিনায়কত্ব করবেন উসমান দেম্বেলে। চোটের কারণে খেলতে পারছেন না কিলিয়ান এমবাপে। তবে ম্যাচের আগে আরেকটি প্রশ্নও সামনে এসেছে। ২০০৬ সালের সেই ফাইনালের পর থেকে মাতেরাজ্জির সঙ্গে আর কথা হয়নি জিদানের।‘না,’ জিদানের উত্তর ছিল খুবই স্পষ্ট। ‘একদমই না।’
ইতালিও নতুন করে নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছে। রবার্তো মানচিনি আবার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ম্যাচেই বেলজিয়ামের কাছে ঘরের মাঠে ২–০ গোলে হেরেছিল তারা। তবে পরের ম্যাচে তুরস্ককে ৪–১ গোলে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইতালি।
এই আন্তর্জাতিক বিরতিতে ৩৩ জন খেলোয়াড়কে দলে ডেকেছিলেন মানচিনি। তবে বার্গামোর ফরোয়ার্ড জিয়াকোমো রাসপাদোরি চোটে পড়েছেন। এরপর আরও নয়জন খেলোয়াড়কে ফ্রান্সে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালি।
তারা হলেন হনেস্ত আহানোর, নিকোলো কামবিয়াগি, দিয়েগো কোপোলা, দানিয়েলে জিলহার্দি, সামুয়েলে ইনাসিও, এডি কুয়াদিও, রোলান্দো মান্দ্রাগোরা, মাসিমো পেসিনা ও আলেসান্দ্রো রোমানো।
ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘তুরস্কের বিপক্ষে বুরসায় যাওয়ার সময়ও প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে পরিচালনার জন্য একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সোমবার বোলোনিয়ায় তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতির কথা বিবেচনায় নিয়ে কোচ রবার্তো মানচিনি এবারও পুরো দলকে ফ্রান্সে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেননি।’
তবে সবকিছুর ওপরে আজকের ম্যাচে থাকবে জিদান ও ইতালির সেই পুরোনো গল্প। বিশ বছর পর আবারও ইতালির মুখোমুখি তিনি। এবার মাথা দিয়ে নয়, ডাগআউট থেকে।










































