স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনার সরকারি সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী ও শাখা ছাত্রদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক রায়হান বিন কামালকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা মামলায় ছাত্রলীগের সব নেতাকে দায়মুক্তি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। গত ৩০ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমরান আহমেদ আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। চলতি সপ্তাহে মামলার বাদী রায়হান বিষয়টি জানতে পারেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন বাতিল ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান রায়হান বিন কামাল। তিনি এখন সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
তাঁর অন্য দাবিগুলো হচ্ছে– মামলার প্রধান আসামি ছাত্রলীগ নেতা বি এম মহিমকে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই থেকে অপসারণ, আসামিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া তদন্ত কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করেন রায়হান বিন কামাল। এতে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে আছেন সিটি কলেজের তৎকালীন ভিপি ও ছাত্রলীগ নেতা বি এম মাহিম, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সবুজ হাজরা, শেখ রেজা, রণবীর বাড়ই সজল, শেখ সাদী, জামিরুল হক মিন্টু ও অমিতাভ ঘোষ, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি দেবদুলাল বাড়ই বাপ্পী, আওয়ামী লীগ নেতা ফয়জুল ইসলাম টিটো।
এজাহারে বলা হয়, ২০১০ সালের ৮ মার্চ ছাত্রদল নেতা রায়হানকে নগরীর সংগীতা সিনেমা হলের সামনে থেকে অপহরণ করে ছাত্রলীগ নেতারা। তিনি ওই সময় কলেজটির ছাত্র সংসদের ভিপি প্রার্থী ছিলেন। তাঁকে ফারাজিপাড়া এলাকায় নিয়ে কুপিয়ে ও রড দিয়ে পেটানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেও হামলা চালানো হয়। জীবন বাঁচাতে স্বজনরা হাসপাতালের পেছন গেট দিয়ে বের করে রায়হানকে ঢাকায় নিয়ে যান।
সংবাদ সম্মেলনে রায়হান বলেন, ‘ঢাকার একটি হাসপাতালে দুদিন আইসিইউতে থাকার পর আমার জ্ঞান ফেরে। পরে চট্টগ্রামে গিয়ে চিকিৎসা করাই। অবস্থা দেখে আমার বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হন। ছয় মাসের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন। বাবার মৃত্যুর জন্য এখনও পরিবার আমাকে দায়ী করে। ওই ঘটনার পর আমি আর খুলনায় ফিরতে পারিনি।’
তিনি অভিযোগ করেন, মামলার পর অসংখ্যবার আসামিদের অবস্থান পুলিশকে জানানো হলেও তারা পদক্ষেপ নেয়নি। তিন দফা তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তাঁকে না জানিয়ে সবাইকে দায়মুক্তি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইমরান হোসাইন বলেন, ‘ঘটনাটি প্রায় ১৪ বছর আগের। মামলা প্রমাণের মতো কোনো কাগজপত্র বাদী সরবরাহ করতে পারেনি। চিকিৎসা প্রতিবেদনের জন্য আমি হাসপাতালের সুপারকে একাধিকবার নোটিশ করেছি। কিন্তু তিনিও কোনো ডকুমেন্টস দিতে পারেননি। কোনো প্রমাণ ছাড়া কারও বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া যায় না।’











































