Home খেলাধুলা শ্রীলঙ্কা পারে, বাংলাদেশ পারে না

শ্রীলঙ্কা পারে, বাংলাদেশ পারে না

0

স্পোর্টস ডেস্ক ।।

গত আগস্টে গ্লাসগোর শ্রীলঙ্কান স্পোর্টস ক্লাব জনসাধারণ থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য একটা পেজ চালু করেছিল। লক্ষ্য ছিল ৯০০ পাউন্ড, শেষ পর্যন্ত ক্লাবটির কোষাগারে জমা হয় ৭৮০ পাউন্ড। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা লঙ্কান প্রবাসীরা ঠিক এ ধরনের অনেক ফান্ডিংয়ের উদ্যোগ নিয়েছেন। সবারই একমাত্র উদ্দেশ্য, রুমেশ থারাঙ্গা পাথিরাগে নামের এক তরুণকে সাহায্য করা।

২৩ বছর বয়সী এই তরুণ পেশায় একজন বর্শা নিক্ষেপকারী। বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করতে হয় তাঁকে। খরচের বড় অংশের কিছুটা লাঘব হয় শ্রীলঙ্কান বিমানবাহিনীতে তাঁর চাকরির সুবাদে। অ্যাথলেটিকসে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মতো নেই কোনো বড় স্পন্সর। ভারত মহাসাগরের এই ছোট দ্বীপরাষ্ট্রটি বিশ্বমানের ব্র্যান্ডগুলোর জন্য বড় কোনো বাজার নাও হতে পারে; কিন্তু পাথিরাগে এখন বিশ্ব অ্যাথলেটিকস সার্কিটের অন্যতম সেরা নাম হিসেবে উঠে এসেছেন। জাপানের আইচি নাগোয়ায় এবারের এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাস গড়েছেন তিনি।

মেয়েদের ক্রিকেট থেকে শ্রীলঙ্কা রুপা জিতেছে। এবারের এশিয়াডে শ্রীলঙ্কা জিতেছে এ দুটি পদক। অথচ ব্যক্তিগত পর্যায়ে তো দূরের কথা, দলগত ইভেন্টেও ব্যর্থ বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা। প্রতিপক্ষ ডিসকোয়ালিফাইড না হলে উশুতে জিন্নাত আক্তারের ব্রোঞ্জপদক জেতা হতো না। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড থেকে শুরু করে সাঁতার, আরচারি, শুটিং– সব ইভেন্টেই শুধু ব্যর্থতার গল্প বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের। শ্রীলঙ্কা আর প্রতিবেশী দেশ ভারত যেখানে একের পর এক পদক জিতে নিচ্ছে, বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা তা শুধু চেয়ে চেয়েই দেখছেন।

এশিয়াডে পদক তালিকায় ভারতের অবস্থান সেরা দশে। ৭টি স্বর্ণ, ২১টি রৌপ্য, ২৫টি ব্রোঞ্জসহ ৫৩ পদক নিয়ে তারা আছে ৯ নম্বরে। একটি ব্রোঞ্জ জেতা বাংলাদেশের অবস্থান ৩৬তম স্থানে। ভারত এবার সবচেয়ে ভালো করেছে অ্যাথলেটিকসে। একটি স্বর্ণ, ৯টি রৌপ্য, ১৪টি ব্রোঞ্জসহ ২৪টি পদক অ্যাথলটিকস থেকে জিতেছে তারা। অথচ ১০০ মিটার স্প্রিন্টে বাংলাদেশের ইমরানুর রহমান সেমিফাইনাল থেকেই ছিটকে যান।

এবারের এশিয়ান গেমসে শুরু থেকেই জাপানে অবস্থান করা বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা সবকিছু পর্যবেক্ষণ করেছেন। অন্যান্য দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, বিপরীতে বাংলাদেশ পিছিয়ে কেন– তা জানতে চাইলে পর্যাপ্ত ট্রেনিংয়ের অভাব সামনে এনেছেন রানা। বুধবার সমকালকে তিনি বলেন, ‘আমাদের ট্রেনিংয়ের খুবই অভাব। ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের টুর্নামেন্টে আসতে হলে এক বছর ট্রেনিং করতে হবে। গেমস এলো আর কয়েক মাস ট্রেনিং করল, তাতে কিন্তু কিছুই হবে না। দুই মাস ট্রেনিং করলে এশিয়ান গেমস তো দূরের কথা, সাফ গেমসও আমরা কিছু জিতব না।’

বাস্তবিক অর্থে খেলোয়াড়দের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করার কথা ফেডারেশনগুলোর। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলো তাকিয়ে থাকে বিওএর দিকে। সরকার অর্থ দিলে তবেই তারা অ্যাথলেটদের ট্রেনিং করান। আদতে এমনটা হওয়ার কথা নয়। শ্রীলঙ্কা, ভারতের অ্যাথলেটরা সারাবছরই ট্রেনিংয়ের মধ্যে থাকেন। তাই তো ফেডারেশনগুলোকে নিজ খরচে চলতে হবে বলে মনে করেন রানা, ‘অ্যাথলেটদের বছরব্যাপী ট্রেনিংয়ে রাখতে হলে ফেডারেশনগুলোর স্বাবলম্বীর বিকল্প নেই। বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফেডারেশনগুলোকে কিছু সিড মানি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটা খুবই ভালো উদ্যোগ।’

জাপানে অন্যান্য দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে অনেক কিছুই জেনেছেন বিওএর এই কর্মকর্তা। ‘আপনি যখন খেলোয়াড় হবেন, তখন শরীর ঠিক রাখতে প্রয়োজন জিম। কিন্তু আমাদের কয়টা ফেডারেশনের নিজস্ব জিম আছে!’ একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের জন্য খেলার জায়গার ঘাটতিও সামনে এনেছেন রানা। ‘আমাদের ছোট ছোট আরচার দুর্দান্ত খেলেছেন। কিছু সূক্ষ্ম পয়েন্টের জন্য আরচাররা পারেননি।’ এশিয়ান গেমসের আগে হঠাৎ কমিটি পরিবর্তনের প্রভাব খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে পড়েছে বলে মনে করেন বিওএ সভাপতি।