ঢাকা অফিস।।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে আসতে যাচ্ছে নতুন পরিবর্তন। বিভিন্ন খাতে সরকারের দেওয়া আলাদা আলাদা কার্ডকে একীভূত করে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এ পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
কিন্তু কী এই ইউনিভার্সাল কার্ড? আর এই কার্ড চালু হলে কী ধরনের সুবিধা মিলতে পারে?
বর্তমানে সামাজিক সুরক্ষা ও সহায়তার জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ড। এ ছাড়া বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ ৯৬টি সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা হলো—বিভিন্ন খাতে চালু থাকা এসব কার্ড ও সহায়তা ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা। অর্থাৎ, একজন নাগরিক বা পরিবারের জন্য বিভিন্ন সুবিধা পেতে আলাদা আলাদা ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি সমন্বিত কার্ড ব্যবহারের ধারণাই হলো ইউনিভার্সাল কার্ড। এর ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি।
সরকারি নথি অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড একটি ডিজিটাল পরিচয় ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। নির্বাচিত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তার সঙ্গে এটি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য—কার্ডটি পরিবারের নারীপ্রধানের নামে দেওয়া হচ্ছে। সুবিধাভোগী নির্বাচনে ব্যবহার করা হচ্ছে পরিবারের আর্থ-সামাজিক তথ্য এবং প্রক্সি মিনস টেস্ট বা পিএমটি স্কোরিংয়ের মতো পদ্ধতি। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘ইউনিভার্সাল সোশ্যাল আইডি কার্ড’-এ রূপান্তরের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির তথ্য একটি সমন্বিত ডাটাবেজে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে ইউনিভার্সাল কার্ড চালু হলে ঠিক কোন কোন সুবিধা এক কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া যাবে, কারা এর আওতায় থাকবেন এবং বর্তমান কার্ডগুলোর কী হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কাঠামো প্রকাশ করা হয়নি।
তবে সম্প্রতি বাংলাভিশনকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ জানিয়েছেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় থাকা সকল সেবাকে এক ছাতার নিচে আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই কার্ডের আওতায় এলেও কোনো সেবা বন্ধ হবে না। বরং অনেকগুলো কার্ডের বিপরীতে সব সেবা মিলবে এক কার্ডের মাধ্যমে।
সমন্বিত এই কার্ডব্যবস্থা চালু হলে একদিকে একই ব্যক্তি একাধিক কর্মসূচিতে সুবিধা নেওয়ার ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে প্রকৃত সুবিধাভোগীকে শনাক্ত করে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের নথির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়ার কথাও বলছেন তারা।











































