Home স্বাস্থ্য বিটরুট খেলে যে উপকারগুলো মিলতে পারে

বিটরুট খেলে যে উপকারগুলো মিলতে পারে

4

মিলি রহমান।।

বিটরুট শুধু খাবারের রং ও স্বাদ বাড়ায় না, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও এটি বেশ সমৃদ্ধ একটি সবজি। সালাদ, জুস, স্মুদি কিংবা রান্না করে বিভিন্নভাবে খাওয়া যায় এটি। এতে থাকা প্রাকৃতিক নাইট্রেট, ফোলেট, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের নানা কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, রক্তসঞ্চালন ও শরীরচর্চার সক্ষমতার সঙ্গে বিটরুট খাওয়ার সম্ভাব্য উপকারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

তবে কোনো একটি খাবারই সুস্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা দেয় না; বরং সুষম ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে বিটরুট খাওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদ নামি আগরওয়ালও নিয়মিত খাদ্যতালিকায় বিটরুট রাখার কয়েকটি সম্ভাব্য উপকারের কথা তুলে ধরেছেন।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

বিটরুটে থাকা প্রাকৃতিক নাইট্রেট শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এতে রক্তনালি কিছুটা প্রসারিত ও শিথিল হতে পারে এবং রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করতে পারে। এ কারণে বিটরুট খাওয়ার সঙ্গে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার সম্ভাব্য উপকারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

ব্যায়ামে বাড়তে পারে সহনশক্তি

যারা নিয়মিত হাঁটা, দৌড়ানো বা ব্যায়াম করেন, তাঁদের খাদ্যতালিকায় বিটরুট রাখা যেতে পারে। এর নাইট্রেট রক্তপ্রবাহ ও পেশিতে অক্সিজেন সরবরাহে সহায়তা করতে পারে। ফলে শরীরচর্চার সময় শারীরিক সক্ষমতা ও সহনশক্তি বাড়াতে এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

লিভারের যত্নে উপকারী

বিটরুটে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উদ্ভিজ্জ যৌগ শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়তে সহায়তা করতে পারে। এসব উপাদান লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে লিভারের কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে শুধু বিটরুটের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।

প্রদাহ কমাতে সহায়তা

বিটরুটে বিভিন্ন ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এসব উপাদানের কিছু প্রদাহ-প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নিয়মিত ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে বিটরুট খেলে শরীরের সামগ্রিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহায়তা করতে পারে।

পুষ্টির ভালো উৎস

বিটরুটে ফোলেট, পটাশিয়াম ও ভিটামিন সি রয়েছে। ফোলেট কোষের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিভাজনে গুরুত্বপূর্ণ, পটাশিয়াম শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে এবং ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও অন্যান্য শারীরিক কাজে প্রয়োজনীয়। তাই অন্যান্য সবজির পাশাপাশি বিটরুটও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

কীভাবে খাবেন

বিটরুট কাঁচা সালাদ হিসেবে, সেদ্ধ করে, রান্নার সঙ্গে কিংবা জুস ও স্মুদিতে মিশিয়ে খাওয়া যায়। তবে শুধু বিটরুটের জুসের ওপর নির্ভর না করে পুরো সবজিটি খাওয়াই ভালো, কারণ এতে খাদ্যআঁশও পাওয়া যায়। অন্যান্য রঙিন সবজি ও ফলের সঙ্গে মিলিয়ে খেলে খাদ্যতালিকায় পুষ্টির বৈচিত্র্য বাড়ে।

সবার জন্য কি উপযোগী

বিটরুট পুষ্টিকর হলেও সবার খাদ্যাভ্যাস বা শারীরিক প্রয়োজন এক নয়। বিশেষ কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে কিংবা নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে প্রতিদিন বেশি পরিমাণে বিটরুট খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো। আর বিটরুটকে কোনো রোগের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে না দেখে সুষম খাদ্যতালিকার একটি অংশ হিসেবেই রাখা উচিত।

সুস্থ থাকতে তাই শুধু একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ফল, প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।