মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি।।
যশোরের মনিরামপুরে নির্মাণাধীন একটি ইটের ঘরের ভেতর থেকে ৪৫টি জীবিত গাঁজা গাছ জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক মাহফুজা বেগমকে (৪৮) আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা গাঁজা গাছের ওজন এক মণের বেশি হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার চাকলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে গাঁজা গাছগুলো জব্দ করে রাজগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। এ ঘটনায় ওই রাতেই মাহফুজা বেগমের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।
রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক কামাল হোসেন জানান, মাহফুজার বসতভিটায় একটি ইটের নির্মাণাধীন ঘর রয়েছে। ঘরটির সামনের দেয়াল উঁচু করে তোলা হলেও এখনো চালা দেওয়া হয়নি। তিন পাশের দেয়ালও আংশিক নির্মাণ করে প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে ঘেরা ছিল। ওই ঘরের ভেতরেই ৪৫টি গাঁজা গাছ বেড়ে উঠছিল।
পরিদর্শক কামাল হোসেন বলেন, ‘গাঁজা গাছ জব্দের পাশাপাশি মাহফুজা বেগমকে আটক করা হয়েছে। তাঁর স্বামী সালমান হোসেন ভারতে থাকেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি সেখানে গাঁজার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং বাংলাদেশ থেকে গাঁজা নিয়ে ভারতে ব্যবসা করেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘উদ্ধার করা গাঁজা গাছের ওজন এক মণের বেশি হবে। এ ঘটনায় মাহফুজা বেগমের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।’
এদিকে পুলিশের অভিযানের সময় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে মাহফুজা বেগম দাবি করেন, তাঁর ছোট মেয়ে একটি চারা এনে ঘরের ভেতর রোপণ করেছিল। ওই গাছ থেকে বীজ পড়ে পরবর্তী সময়ে অন্য গাছগুলো জন্ম নেয়। তাঁর ছোট মেয়েটিও ভিডিওতে দাবি করে, ফুলগাছ মনে করে সে চারাটি এনে রোপণ করেছিল।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইসলাম গাজী বলেন, মাহফুজা তাঁর বাবার ভিটায় বসবাস করেন। তাঁর স্বামী সালমান ভারত থেকে এসে তাঁকে বিয়ে করে কিছুদিন এখানে থাকতেন। তিনি ভ্যানে করে ভাঙারি মালামাল কিনতেন। তাঁদের গাঁজার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্থানীয়ভাবে কখনো শোনা যায়নি।
ইউপি সদস্য আরও বলেন, ‘মাহফুজা গরিব মানুষ। স্থানীয়ভাবে সহযোগিতা নিয়ে হয়তো তাঁর জামিনের ব্যবস্থা করতে হবে।’
তবে মাহফুজার এই বক্তব্য সত্য নয় বলে দাবি করেছেন রাজগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক কামাল হোসেন। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।











































