শামিম শিকদার।।
শান্ত খুলনাকে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিতে এক ভয়াবহ নাশকতামূলক নীল নকশা বাস্তবায়ন শুরু করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ও কোণঠাসা হয়ে পড়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের একটি সুসংগঠিত চক্র। সম্প্রতি নগরজুড়ে আকস্মিক কয়েকটি ঝটিকা মিছিল ও নাশকতার পাঁয়তারাকে কেন্দ্র করে এই অশুভ তৎপরতা উন্মোচিত হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় নস্যাৎ হতে চলেছে তাদের এই পরিকল্পনা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর শেখপাড়া তেঁতুলতলা মোড় এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে ঝটিকা মিছিল বের করার সময় হাতেনাতে আওয়ামী লীগের দুই সক্রিয় কর্মীকে আটক করেছে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন শেখপাড়া লোহাপট্টির ব্যবসায়ী তনু এবং ইব্রাহিম। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে মিছিলের আয়োজক ও অর্থের উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, খুলনা নগরী ও জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটিয়ে বড় ধরনের নাশকতার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করাই ছিল এই চক্রান্তের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক ও ক্যাডার গ্রুপ গড়ে তোলা হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে থেকে যারা সরজমিনে উপস্থিত ছিলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় উসকানি দিয়েছেন কিংবা মোটা অঙ্কের অর্থের জোগান দিয়েছেন-এমন বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার একটি তালিকা ইতোমধ্যে কেএমপির কাছে এসে পৌঁছেছে।

তদন্তে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর খুলনা নগরীর প্রাণকেন্দ্র তেতুলতলা মোড়ে ঝটিকা মিছিল ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির নেপথ্য কারিগর হিসেবে আছে সদ্য কারামুক্ত সন্ত্রাসী শওকত হোসেন ওরফে কালা শওকত, ফাইজুল ইসলাম টিটো, আবুল কালাম আজাদ, শরিফ মঞ্জুর শামীম বাবু, সৌরভ ফকির, রনবীর বাড়ই সজল ও জুয়েলসহ কয়েকজন চিহ্নিত ক্যাডার।
ঝটিকা মিছিল সফল করতে এবং মাঠে থাকা ক্যাডারদের যাতায়াত খরচের বড় অঙ্কের অর্থ জোগান দেওয়ার পাশাপাশি ভার্চুয়াল নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন খুলনা মহানগর যুবলীগের সভাপতি শফিকুর রহমান পলাশ এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ শাহজালাল সুজন।
অন্যদিকে, শহর ও বিভিন্ন এলাকা থেকে ঝটিকা মিছিলে লোকবল এবং ভাড়াটে কর্মী সংগ্রহের মূল দায়িত্ব পালন করেছেন খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম কচি এবং জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুর রহমান সোহাগ। এছাড়া পুরো কর্মকাণ্ডটি পর্দার আড়াল থেকে নিখুঁতভাবে বাস্তাবায়নের জন্য সার্বক্ষণিক প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত দিক-নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পারভেজ হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন এবং মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি দেবদুলাল বাড়ুই বাপ্পি।
পরিকল্পিতভাবে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও সাধারণ মানুষের চলাচলের পথে আতঙ্ক ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার এই চেষ্টায় সাধারণ নগরবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সচেতন মহল অবিলম্বে এই নাশকতামূলক চক্রের মূল উৎপাটের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, খুলনার শান্ত পরিবেশ বিনষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। তালিকায় থাকা নির্দেশদাতা, অর্থদাতা এবং মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছে।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, মিছিল থেকে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। নেপথ্যে যারা আছেন তাদের বিরুদ্ধেও অভিযান শুরু হয়েছে এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।










































