আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। সম্মেলন ঘিরে শহরজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। পাশাপাশি বিদেশি অতিথিদের চলাচলের জন্য সাময়িক যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন সড়কে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
দুই দিনের এই সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানসহ সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর নেতারা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়ে ব্রিকসের সদস্যদের ভিন্নমত, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আজ রোববার ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
পুতিন ইতোমধ্যে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ইরানের প্রেসিডেন্টের পৃথক বৈঠক হওয়ার কথা। এসব বৈঠকে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।
ছয় বছর পর ভারত সফরে এসেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় সীমান্ত সংঘর্ষে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের অবনতি হয়েছিল। ওই সংঘর্ষে চীনেরও কয়েকজন সেনা নিহত হন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক আবারও কিছুটা উষ্ণ হচ্ছে। বিমান চলাচল, ভিসা এবং উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ধীরে ধীরে পুনরায় চালু হয়েছে। সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও শির বৈঠক হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
২০০৯ সালে পশ্চিমা-প্রধান বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোর প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্রিকস গঠিত হয়। সময়ের সঙ্গে জোটটি সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এই ১১টি দেশ ব্রিকসের সদস্য।
২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে ভারত। সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি অংশীদার ও আমন্ত্রিত দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নিচ্ছেন। ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা জোরদার করা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতবিনিময়ই সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সম্মেলনে পুতিন, শি ও পেজেশকিয়ানের পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা অংশ নিচ্ছেন।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার পরিবর্তে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরা প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে জানা গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের পরিবর্তে আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও সম্মেলনে অংশ নিতে পারেন।
এদিকে সম্মেলন ঘিরে নয়াদিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রায় ১৫ হাজার দিল্লি পুলিশ সদস্য, আধাসামরিক বাহিনীর ২০০ কোম্পানি এবং ৫০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে রাজধানীতে নজরদারি চালানো হচ্ছে।
দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, সম্মেলনের কারণে পুরো শহর বন্ধ থাকবে না। তবে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের চলাচলের সময় সাময়িকভাবে যানবাহন থামানো, বিভিন্ন সড়কে যান ঘুরিয়ে দেওয়া এবং কিছু পথে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। ভিভিআইপি বহর চলাচলের সময় যানবাহন কতক্ষণ আটকে থাকবে, তা নির্দিষ্ট নয়; পরিস্থিতি অনুযায়ী ধাপে ধাপে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।
নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় বিমানবন্দর, অতিথিদের আবাসস্থল, ভারত মণ্ডপমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নয়াদিল্লি এলাকায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা, মুখ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং গাড়ির নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরা দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে।
সম্মেলনের সময়ে ৩৫টির বেশি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে নয়ডা থেকে মধ্য দিল্লি, পূর্ব দিল্লি থেকে মধ্যাঞ্চল এবং দ্বারকা ও পশ্চিম দিল্লি থেকে ধৌলা কুয়ান, বিমানবন্দর ও দক্ষিণ দিল্লিগামী যাত্রীদের ওপর যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রভাব পড়তে পারে।










































