ক্রীড়া প্রতিবেদক।।
প্রস্তুতিটা হওয়ার কথা ছিল জার্মানিতে। ভিসা জটিলতায় সেখানে যাওয়া হয়নি বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের। এশিয়ান গেমসের আগে নিজেদের তৈরি করতে আমিরুল ইসলাম-রাকিবুলদের চীনে পাঠায় বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। সেখানে স্থানীয় দলগুলোর সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছেন তারা। স্বাগতিক চীনের সঙ্গে দুটি ম্যাচে হারলেও লড়াকু পারফরম্যান্স দেখিয়েছে লাল-সবুজের দলটি। আজ শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে ঢাকা আসবে পুরো দল। সেখান থেকে যাবে জাপানের নাগোয়া শহরে। এখানে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান গেমস।
আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগের দিনই হকির লড়াইয়ে মাঠে নামছে গেরহার্ড পিটারের দল। ১৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। পুরো দলের ফোকাস এখন কোরিয়া ম্যাচের দিকে। এই ম্যাচ জিতলে স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ অতিক্রম করবে দল। সেরা ছয়ের থাকার কথা শুনিয়েছেন দলের অন্যতম সেরা তারকা আমিরুল ইসলাম। গতকাল বৃহস্পতিবার চীন থেকে সমকালের সঙ্গে নিজের লক্ষ্যের কথা এভাবেই ব্যক্ত করেন তিনি, ‘সুপার সিক্সে থাকার টার্গেট আছে আমাদের। ইনশাআল্লাহ আমরা পারব। এখানে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে অনেক কিছুই বুঝতে পারছি যে আমাদের টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো কেমন হতে যাচ্ছে এবং আমাদের কোন কোন বিষয়ে আরও বেশি ফোকাস করা উচিত।’
১২ দলের প্রতিযোগিতায় পুল ‘এ’তে বাংলাদেশ খেলবে ভারত, কোরিয়া, জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। শক্তির বিচারে ভারতের সঙ্গে পেরে ওঠা কঠিন। তাই কোরিয়ার পর জাপানকে টার্গেট করা আমিরুলরা ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩ পয়েন্ট পাওয়ার আশা করছেন, ‘শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে আমরা ৩ পয়েন্ট চাই। ম্যাচ বাই ম্যাচ এগোতে চাই। কোরিয়া, জাপানের সঙ্গে ভালো কিছু করলে সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে। যেহেতু প্রথম ম্যাচটি কোরিয়ার সঙ্গে, আপাতত তাদের নিয়েই ভাবছি।’
এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরের আগে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে পারলে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে আরও জানতে পারতেন খেলোয়াড়রা। সেই জন্য জার্মানিই ছিল সেরা অপশন। এটা নিয়ে অবশ্য কোনো আক্ষেপ নেই আমিরুলের, ‘জার্মানি গিয়ে ক্যাম্প করতে পারলে ভালো হতো। তাদের চারটি শক্তিশালী টিমের সঙ্গে খেলতে পারতাম। যেটা হয়নি, সেটা নিয়ে চিন্তা করে লাভ নেই।’ এশিয়াডের মতো বড় মঞ্চে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ কাজে লাগাতে চান তিনি, ‘এশিয়ান গেমসের মঞ্চটা অনেক বড়। প্রত্যেক খেলোয়াড়ের স্বপ্ন থাকে এশিয়ার এই পর্যায়ে খেলা। সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পথে। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ভালো করলে আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হব। ব্যক্তিগত লক্ষ্যের কথা যদি বলতে হয়, আমি চেষ্টা করব নিজেকে শতভাগ মেলে ধরতে। দলের জন্য সেরা যে পারফরম্যান্স, সেটা দেখাতে চাই। সবকিছু মিলিয়ে আমি তৈরি।’
চীনের প্রস্তুতিতে অনেক কিছুই রপ্ত করেছেন খেলোয়াড়রা। কোচের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছেন তারা। প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতাগুলো খেলোয়াড়দের ধরিয়ে দিচ্ছেন কোচ পিটার। তাই প্রস্তুতি নিয়ে বেশ খুশি আমিরুল, ‘আমি বলব দারুণ প্রস্তুতি হয়েছে আমাদের। কোচ সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে আমাদের শিখিয়ে দিচ্ছেন কীভাবে খেলতে হবে, কীভাবে বল রিসিভ করতে হবে এবং কীভাবে আক্রমণ করতে হবে।’










































