স্পোর্টস ডেস্ক।।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেয়েনুর্ডের বিপক্ষে বার্সেলোনার ৫-১ গোলের দুর্দান্ত জয়ের পর তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালকে ব্যালন ডি’অর জয়ের যোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন ক্লাবটির কোচ হান্সি ফ্লিক।
বুধবার রাতে বৃষ্টিভেজা স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে ফেয়েনুর্ডের বিপক্ষে জয়ে ইয়ামাল একটি গোল করেন এবং সতীর্থদের দিয়ে আরও দুটি গোল করান। ফ্রি-কিক থেকে করা গোলটি চলতি মৌসুমে তার পঞ্চম গোল।
সোমবার ঘোষিত ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছেন ইয়ামাল। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে এ পুরস্কারের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ইয়ামাল ব্যালন ডি’অর জিততে পারেন কি না জানতে চাইলে ফ্লিক বলেন, ‘অবশ্যই, সে আমার খেলোয়াড়, বার্সেলোনার খেলোয়াড়। সে ব্যালন ডি’অর জয়ের যোগ্য। আমার কাছে এটা দারুণ ব্যাপার।’
জার্মান এই কোচ আরও বলেন, ‘প্রতিটি ম্যাচেই দেখা যায়, সে বিশেষ একজন। তার মতো গুণ আর কারও নেই। আমার মনে হয়, সে এই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য।’
ফেয়েনুর্ডের বিপক্ষে করা গোলটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইয়ামালের ১২তম গোল। প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে কিশোর বয়সে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে কিলিয়ান এমবাপ্পের ১৩ গোলের চেয়ে এখন মাত্র এক গোল পিছিয়ে তিনি।
বার্সেলোনার হয়ে মাত্র ১৯ বছর ৫৮ দিন বয়সে ইয়ামালের গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে সংখ্যা এখন ১০১। এর মধ্যে তার গোল ৫৪টি এবং অ্যাসিস্ট ৪৭টি।
গত মৌসুমেও দুর্দান্ত ছিলেন ইয়ামাল। বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা জেতার পাশাপাশি স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জেতেন তিনি। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠেছেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।
তবে পুরস্কারের দৌড়ে তাকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হবে। তালিকায় রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে, বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইন এবং গতবারের বিজয়ী উসমান দেম্বেলের মতো খেলোয়াড়েরা।
তবে ইয়ামালের পাশাপাশি বার্সেলোনার রাফিনিয়া ও পেদ্রির নাম ৩০ জনের তালিকায় না থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ফ্লিক। তিনি বলেন, ‘তারা সেখানে না থাকার মতো খেলোয়াড় নয়। কিন্তু এ বিষয়ে আমরা কিছু পরিবর্তন করতে পারি না। তারা অসাধারণ খেলোয়াড় এবং তাদেরও সেখানে থাকা উচিত ছিল।’
চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রাফিনিয়াও ফেয়েনুর্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছেন। বার্সেলোনার প্রথম ও তৃতীয় গোল করেন এই ব্রাজিলিয়ান। গ্রীষ্মের দলবদলে আসা করিম আদেয়েমি ও গ্যাব্রিয়েল জেসুসও একটি করে গোল করেন।
স্ট্রাইকার হিসেবে খেলতে থাকা রাফিনিয়ার চলতি মৌসুমে গোলসংখ্যা এখন আট। বার্সেলোনার হয়ে ১৯৫০ সালের পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দলের মৌসুমের শুরুর পাঁচ ম্যাচেই গোল করার কীর্তিও গড়েছেন তিনি।
রাফিনিয়ার প্রশংসা করে ফ্লিক বলেন, ‘আজ আমরা রাফিনিয়ার দারুণ তীব্রতা দেখেছি। গভীর থেকে তার আক্রমণে উঠে আসা এবং দ্বিতীয় গোলের সময় পেদ্রির পাস এটা অসাধারণ।’
চলতি মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচের মধ্যে চারটিতেই পাঁচ গোল করেছে বার্সেলোনা। সব মিলিয়ে মৌসুমে তাদের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২-এ। ফলে ২০১৫ সালের পর প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জয়ের স্বপ্নও জোরালো হয়েছে।
তবে ফ্লিক মনে করছেন, মৌসুমের এখনো অনেকটা পথ বাকি। তিনি বলেন, দলের পারফরম্যান্সে তিনি খুবই সন্তুষ্ট হলেও উন্নতির আরও জায়গা রয়েছে।










































