স্টাফ রিপোর্টার।।
এক সময়ের শান্ত ও শান্তির নগরী হিসেবে পরিচিত শিল্পনগরী খুলনা আজ বখাটে ও কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া আড্ডা ও উৎপাটে বিপর্যস্ত। শহরজুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে, মোড়ে মোড়ে, খেলার মাঠ এবং পার্কের মতো উন্মুক্ত স্থানগুলোতে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বখাটেদের অবাধ বিচরণ এখন নিত্যদিনের চিত্র।
আড্ডা, ইভটিজিং, উচ্চশব্দে বাইকের মহড়া এবং মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে ছোটখাটো তর্কাতর্কি থেকে শুরু হচ্ছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। ফলে সাধারণ পথচারী, বিশেষ করে নারী ও ছাত্রীদের নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে।
অলিগলিতে আড্ডা ও মোড়ে মোড়ে আস্তানা: নগরীর শিববাড়ী মোড়, ময়লাপোতা, রয়াল মোড়, বয়রা, দৌলতপুর, খালিশপুর, খানজাহান আলী রোড, শান্তিধাম মোড় এবং রূপসা নদীর পাড়সহ অলিগলির প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্পটে গড়ে উঠেছে বখাটেদের শক্ত আস্তানা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যালয় ও কলেজের ছুটির সময় এবং বিকেল নামলেই মোড়গুলোতে মোটরসাইকেল হাঁকিয়ে বখাটেদের বেপরোয়া মহড়া শুরু হয়। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া শিক্ষার্থী ও সাধারণ নারীদের উদ্দেশ্য করে কটূক্তি করা যেন তাদের প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। প্রতিবাদ করতে গেলে অপমানিত হতে হয় অভিভাবক ও স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠদের।

কিশোর গ্যাং ও মাদক: খুলনা মহানগরীর আড্ডাবাজি এখন আর কেবল সময় কাটানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; তা রূপ নিয়েছে সংগঠিত অপরাধে। গলির মোড়ে বখাটেদের আড্ডাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একাধিক কিশোর গ্যাং।
এরা দিনে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও আড়ালে ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং ফেন্সিডিল, ইয়াবাসহ মারাত্মক মাদকের বিকিকিনির সাথে জড়িয়ে পড়ছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধারালো অস্ত্র নিয়ে নিজেদের মধ্যে কোপাকুপি কিংবা প্রতিপক্ষ গ্রুপকে ঘায়েল করার ঘটনাও ঘটছে অহরহ।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির শিথিলতায় ক্ষোভ: শিল্পনগরীর এমন অনিয়ন্ত্রিত ও থমথমে পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ নগরবাসী। পুলিশের দৃশ্যমান টহল ও কঠোর আইনি পদক্ষেপের অভাবেই বখাটেরা এত বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ সচেতন মহলের। সন্ধা নামলেই পাড়া-মহল্লায় এক ধরনের আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়।
সুধী সমাজ ও অভিভাবক মহলের দাবি: খুলনার সচেতন সুধী সমাজ ও অভিভাবকরা মনে করছেন, নগরীকে নিরাপদ রাখতে হলে এখনই পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশ এবং বখাটেদের আড্ডাস্থলগুলোতে স্পেশাল কম্বিং অপারেশন (বিশেষ অভিযান) চালুর জোর দাবি জানান তাঁরা।
একই সাথে যেসব পয়েন্টে বখাটেদের জমায়েত বেশি, সেখানে নিয়মিত বিট পুলিশিং ও ফুট টহল বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তারা, যাতে খুলনার ঐতিহ্যবাহী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফের স্বস্তিদায়ক অবস্থায় ফিরে আসে।










































