স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনাজুড়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখন এক চরম আতঙ্কের নাম। হাসপাতালের ওয়ার্ড থেকে শুরু করে শহরের অলিগলি কিংবা বাসাবাড়ি-প্রতিটি পরিবারেই যেন ঘুরপাক খাচ্ছে এডিস মশার বিষাক্ত ছোবল ও ডেঙ্গু জ্বরের ভয়াল থাবা। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও জীবনের ঝুঁকি। খুলনার সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর উপচে পড়া ভিড়ে বেড ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
আক্রান্ত স্বজনদের চিকিৎসা মেটাতে সাধারণ ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো যখন দিশেহারা ও নিঃস্ব হতে বসেছে, ঠিক তখন খুলনাবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্যকে দেখা যাচ্ছে একদম নিশ্চুপ ও নীরব ভূমিকায়।
জনগণের এই চরম দুর্যোগ ও জীবন-মরণের সংকটকালে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির এমন অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ও নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে পুরো খুলনাজুড়ে এখন তীব্র অসন্তোষ ও জনক্ষোভ ফুসে উঠেছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল, এমন সংকটে সংসদ সদস্য নিজে মাঠে নেমে মশক নিধন অভিযান তদারকি করবেন, হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করতে প্রশাসনকে নির্দেশনা দেবেন এবং আক্রান্তদের পাশে দাঁড়িয়ে আশার আলো জ্বালাবেন। অথচ বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো; ডেঙ্গুর এই তাণ্ডবের মাঝে সংসদ সদস্যের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ, মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনের বা কোনো দিকনির্দেশনার উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে না।
ভোটে জেতার পর বিপদের দিনে জনপ্রতিনিধির এমন উদাসীনতাকে খুলনাবাসী তাদের প্রতি চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা বলেই মনে করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে নগরীর অলিগলিতে এখন কেবলই তাঁর নীরবতার কড়া সমালোচনা।
ইকবালনগর এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম জানান, ভোটের সময় জনগণের দুয়ারে দুয়ারে ঘোরা নেতারা যদি এমন কঠিন বিপদে মুখ ফিরিয়ে থাকেন, তবে সেই জনপ্রতিনিধিত্বের অর্থ কী?
অবিলম্বে খুলনাকে এই ভয়াল ডেঙ্গুমুক্ত করতে এবং আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নিষ্ক্রিয়তা ভেঙে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন রবিউল।
এদিকে মানবাধিকার নেতা তুহিন বলেন, একজন সংসদ সদস্যের উচিত মাঠে নেমে জনগণের দুর্ভোগে পাশে দাড়ানো।










































