পাইকগাছা প্রতিনিধি।।
খুলনার পাইকগাছায় ‘নিউসান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’ নামের একটি সমবায় সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে গ্রাহকের ১ কোটি ২২ লাখ টাকা ও সমিতির নিজস্ব মূলধনসহ সোয়া ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সমিতির গ্রাহকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, সমিতির সভাপতি দ্বিপায়ন ঢালী সমিতির প্রায় ৪ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে পরিবারের আট সদস্যকে নিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। এর মধ্যে গ্রাহকদের জমা করা ১ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং সমিতির নিজস্ব মূলধন ৩ কোটি টাকা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১০ সালের ২৭ ডিসেম্বর খুলনা জেলা সমবায় দপ্তর থেকে ‘নিউসান সমবায় সমিতি’ (৬৫৭/কে) নামে প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধন নেয়। এরপর থেকে পাইকগাছা উপজেলার লতা ইউনিয়নের হানিরাবাদ এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল সমিতিটি।
চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল দ্বিপায়ন ঢালী সমিতির কার্যালয় হানিরাবাদ থেকে আলোকদ্বীপ বাজারে স্থানান্তর করেন। সেখানে নিজের লোকজন নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করলে নানা জটিলতা দেখা দেয়। পরে উপজেলা সমবায় দপ্তরের সহকারী পরিদর্শক দীপন জোদ্দার সমিতি পরিদর্শনে গিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগের সত্যতা পান বলে জানা গেছে।
এর মধ্যে গত ২০ আগস্ট স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের আট সদস্যকে নিয়ে দ্বিপায়ন ঢালী লাপাত্তা হন।
পরে বিষয়টি জানতে পেরে সমবায় কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সমিতির কার্যালয় বন্ধ পান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, সমিতির অর্থে দ্বিপায়ন ঢালী নিজের নামে বিভিন্ন স্থানে জমি কিনেছিলেন। এর মধ্যে পাইকগাছায় ১৬ বিঘা, দাকোপের চালনায় ৭ বিঘা এবং খুলনার জিরোপয়েন্ট এলাকায় ৫ শতক জমি রয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন। এসব সম্পত্তির মধ্যে নিজ বাড়ির ১১ বিঘা ১২ শতকসহ বিভিন্ন সম্পত্তি বিক্রি করে তিনি পরিবার নিয়ে দেশ ছেড়েছেন বলেও দাবি করেন তাঁরা।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক কমলেশ ঢালী বলেন, দ্বিপায়ন ঢালী প্রায় ২৫০ গ্রাহকের ১ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং সমিতির নিজস্ব মূলধন ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়েছেন।
তাঁর স্ত্রী মিনতী বিশ্বাস, বড় ভাই সঞ্জয় ঢালী, বড় ভাইয়ের স্ত্রী রতনা ঢালী, বাবা কালিপদ ঢালী, মা রেখা রানী ঢালী এবং দ্বিপায়ন ও সঞ্জয় ঢালীর দুই শিশুকন্যাসহ পরিবারের আট সদস্যের কাউকেই এখন পাওয়া যাচ্ছে না।
সমিতির মাঠকর্মী দিপ্তী রায় বলেন, ‘দ্বিপায়ন ঢালী একই সঙ্গে সমিতির ম্যানেজার ও ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি শত শত গ্রাহকের টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন। এখন আমরা মাঠকর্মীরাও বিপদে পড়েছি। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে দ্বিপায়ন ঢালীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যদেরও কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা রবিবার (২৩ আগস্ট) এলাকাটি পরিদর্শন করেছি। গ্রাহক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। দ্বিপায়ন ঢালীর স্বপরিবারে খোঁজ মিলছে না। সমিতির অফিসও বন্ধ। আমরা বিষয়টি জেলা অফিসকে জানিয়েছি। নিয়ম অনুযায়ী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’










































