Home Lead খুলনায় ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু, বাড়ছে মশার উৎপাত

খুলনায় ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু, বাড়ছে মশার উৎপাত

24

স্টাফ রিপোর্টার।।


খুলনায় ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ। এরই মধ্যে মশার দাপটে অতিষ্ঠ নগরবাসী। ড্রেন-নালা, ময়লার স্তূপ আর জমে থাকা পানিতে নির্বিঘ্নে বংশবিস্তার করছে মশা। মশক নিধনে কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও নিয়ন্ত্রণে আসছে না পরিস্থিতি।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নোংরা ড্রেনের পানি, পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পানি আর ময়লার স্তূপে তৈরি হচ্ছে মশার প্রজননক্ষেত্র। বৃষ্টির পর জমে থাকা পানিতে বাড়ছে এডিস মশার বিস্তারের ঝুঁকি। সন্ধ্যা হলেই মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন নগরবাসী।

নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. ইয়াহিয়া বলেন, দিনে-রাতে সমানতালে মশার অত্যাচার চলছে। বাসায় শিশু ও বয়স্কদের জন্য সারা দিন মশারি টাঙিয়ে রাখতে হয়। রাতে কয়েল, ইলেকট্রিক ব্যাট; কিছুই মানে না। সিটি করপোরেশনের পক্ষ ওষুধ ছিটানো হয়, তবে তা খুব একটা কাজে আসছে না।

টুটপাড়া এলাকার গৃহিণী সুমনা মামুনের প্রশ্ন, একটা জায়গায় পাঁচ মিনিট দাঁড়ানো যায় না, মৌমাছির মতো মশা ঘিরে ধরে। কেসিসি থেকে যে ওষুধ ছিটানো হয়, তার কি কোনো কার্যকারিতা আছে?

মশার উৎপাতের সঙ্গে বাড়ছে ডেঙ্গু আতঙ্কও। নিরালা এলাকার বাসিন্দা নেয়ামুল বারী হুজাইফা বলেন, ‘দিন দিন ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সিটি করপোরেশন মাঝে মধ্যে ওষুধ ছিটায়, কিন্তু মশা মরে না।’

মশার এমন উপদ্রবের মধ্যেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ। সবশেষ এক সপ্তাহে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২০০ জন। জেলার অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ২৯৮ জন। বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১২৫ জনসহ পুরো বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে আছেন পাঁচ শতাধিক রোগী। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদেরও কাটছে আতঙ্ক আর কষ্টে। জ্বর, গায়ে ব্যথাসহ নানা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসছেন তারা।

শুধু খুলনা নয়, বিভাগজুড়েই বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। বিশেষ করে বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ায় রোগীর সংখ্যা বেশি। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর খুলনায় ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১৪ জন।

চিকিৎসকদের আশঙ্কা, বর্ষা শেষে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, ‘বর্ষা শেষে ডেঙ্গু রোগীর চাপ আরও বাড়তে পারে। তাই মশক নিধন কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। জ্বর, গায়ে ব্যথাসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।’

কেসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, ২২, ২৮, ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগী বেশি। এসব এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করে চলছে বিশেষ মশক নিধন কর্মসূচি। নিয়মিত ফগিং, ড্রেন পরিষ্কার, লার্ভিসাইড প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রেড জোনগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন কার্যক্রম চলছে। নগরবাসীকেও নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।

তবে নগরবাসীর প্রশ্ন, মশক নিধনে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পরও কেন কমছে না মশার উৎপাত? কেসিসির তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে মশক নিধন কার্যক্রমে ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি টাকারও বেশি। ব্যয় বাড়লেও মশার দাপট কমছে না, বরং ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে এমন বাস্তবতায় মশক নিধন কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে নগরবাসীর মধ্যে।