স্পোর্টস ডেস্ক।।
গত ১৯ জুলাই রাতে রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের চ্যাম্পিয়নের মুকুট জয় করে স্পেন। স্ট্রাইকার ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে বিশ্বজয় নিশ্চিত করে স্প্যানিশ আর্মাডা। ইতোমধ্যে দেশে ফিরেছে স্পেনের ফুটবলাররা। মাদ্রিদে পৌঁছানোর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঘিরে শুরু হয় সংবর্ধনার আয়োজন। রাজপ্রাসাদে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবর্ধনা এবং রাজধানীর প্রধান সড়কজুড়ে ছাদখোলা বাসে চ্যাম্পিয়ন প্যারেডে অংশ নেন লামিন ইয়ামাল, রদ্রি, ফেরান তোরেসরা। তার মধ্যে এক ভিন্ন রকমের উদযাপন চোখে পড়ল। নিজেদের জন্মস্থানে পা রাখতেই অভিনব সংবর্ধনায় ভাসলেন স্পেনের দুই তারকা ফুটবলার। একজন ফাবিয়ান রুইজ।
অন্যজন পাবলো পায়েজ গাভিরা, যিনি পরিচিতি গাভি নামে। সেভিল প্রদেশের লস পালাসিওস ওয়াই ভিয়াফ্রাঙ্কা শহরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই দুই তারকার। বিশ্বকাপ জিতে ঘরে ফিরতেই তাদের জন্য এক বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করে সিটি কাউন্সিল। সেখানে উপহার হিসেবে ছিল টমেটো। অবাক হচ্ছেন! দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে তাদের নিজেদের ওজনের সমান টমেটো দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে। স্থানীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, এ সম্মান। এমন অভিনব পুরস্কার পেয়ে দুই ফুটবলার আপ্লুত।
শুধু টমেটো নয়, তাদের জন্য এক বড় সম্মান অপেক্ষা করছে নিজ দেশে। লস পালাসিওস ওয়াই ভিয়াফ্রাঙ্কার স্থানীয় প্রশাসন ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শহরের দুটি বিখ্যাত ফুটবল স্টেডিয়ামের নাম চিরতরে বদলে ফেলা হচ্ছে। এই দুই তারকার নামেই হবে স্টেডিয়ামের নামকরণ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, শহরের মারিসমাস স্টেডিয়াম এবং সান সেবাস্তিয়ান স্টেডিয়ামের নাম পালটে ফেলা হচ্ছে। মারিসমাস স্টেডিয়ামের নতুন নাম হবে ‘ফাবিয়ান রুইজ’। অন্যদিকে সান সেবাস্তিয়ান স্টেডিয়াম বদলে হবে ‘পাবলো পায়েজ গাভিরা গাভি’। শহরের বুকে তাদের নাম চিরকাল খোদাই হয়ে রইল।
এই নামকরণের পেছনে রয়েছে এক গভীর আবেগ। দুই ফুটবলারেরই শৈশব জড়িয়ে রয়েছে এই দুই ময়দানের সঙ্গে (এধার)। ফাবিয়ান রুইজের কেরিয়ার শুরু হয়েছিল লস পালাসিওস সিএফ ক্লাবের হাত ধরে। যারা তাদের হোম ম্যাচ খেলে ওই মারিসমাস স্টেডিয়ামেই। ফলে শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত মাঠ এবার তার নিজের নামেই পরিচিত পেতে যাচ্ছে। অন্যদিকে মাত্র ছ’বছর বয়সে লা লিয়ারা বালোম্পি ক্লাবের যুব দলে যোগ দেন গাভি। সেখানে খেলেই তার উত্থান। দলটির ঘরের মাঠ হলো সান সেবাস্তিয়ান স্টেডিয়াম। সেই মাঠের সঙ্গে জুড়ে গেল বার্সেলোনার তরুণ মিডফিল্ডারের নাম।
ছোটবেলার ক্লাব ও মাঠের সঙ্গে দুই তারকার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ককে এক সুতোয় বাঁধল স্থানীয় প্রশাসন। শহরের কৃতী সন্তানদের জন্য সিটি কাউন্সিলের সম্মান এখানেই থামছে না। আরও এক বিশেষ চমক অপেক্ষা করছে লস পালাসিওসের বাসিন্দাদের জন্য। হুয়ান হোসে ভাকেরো অ্যাভিনিউতে স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করতে চলেছে প্রশাসন; যা তৈরি হবে ফাবিয়ান রুইজ, গাভি এবং প্রাক্তন উইঙ্গার জেসুস নাভাসের সম্মানে।










































