Home Lead কত পেল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

কত পেল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

2


স্পোর্টস ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুধু অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়ানোর কারণেই নয়, প্রাইজমানির দিক থেকেও নতুন ইতিহাস গড়েছে। ৪৮ দলের এই আসরের জন্য মোট ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের রেকর্ড প্রাইজমানি ঘোষণা করে ফিফা, যা কিনা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।

ফিফার নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের প্রত্যেকেই ন্যূনতম ১ কোটি ৫ লাখ ডলার পাচ্ছে। এর মধ্যে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া দলগুলো পেয়েছে ৯০ লাখ ডলার এবং প্রস্তুতি ব্যয় বাবদ অতিরিক্ত ১৫ লাখ ডলার।

এবারের বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দল স্পেন পাচ্ছে ৫ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকার সমান। রানার্সআপ দল আর্জেন্টিনা পাচ্ছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল ইংল্যান্ড পেয়েছে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার এবং চতুর্থ স্থান অধিকারী ফ্রান্স পেয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া মরক্কো, বেলজিয়াম, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড পাচ্ছে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার করে। শেষ ষোলোতে বিদায় নেওয়া আটটি দল পাচ্ছে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে। আর শেষ ৩২ থেকে বিদায় নেওয়া ১৬টি দলের প্রত্যেকের প্রাইজমানি ১ কোটি ১০ লাখ ডলার।

তবে এই অর্থ সরাসরি খেলোয়াড়দের হাতে তুলে দেয় না ফিফা। প্রাইজমানির পুরো অর্থ সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশন বা অ্যাসোসিয়েশনের কাছে যায়। এরপর তারা নিজেদের নীতিমালা অনুযায়ী খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও ফুটবল উন্নয়ন খাতে অর্থ বণ্টন করে।

এর উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ফেডারেশনের নীতিমালার কথা উল্লেখ করা যায়। শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার পাচ্ছে। দেশটির বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী, এই অর্থের ৮০ শতাংশ নারী ও পুরুষ জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে। তবে এর জন্য আগামী নারী বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হতে হবে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা ম্যাচপ্রতি যে বোনাস পান, তা তারা নিয়মিত দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করেন।

ফিফার ২০২৩-২০২৬ অর্থনৈতিক চক্রে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। এর প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যয় করা হচ্ছে বিশ্বকাপের প্রাইজমানিতে। আগের চার বছরের আর্থিক চক্রে সংস্থাটির মোট আয় ছিল ৭৬০ কোটি ডলার।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পেয়েছিল ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। এবার সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ডলারে, অর্থাৎ ৮০ লাখ ডলার বেশি। রানার্সআপ, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দলগুলোর প্রাইজমানিও আগের আসরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

১৯৮২ সালে প্রথমবারের মতো ফিফার প্রকাশিত বিশ্বকাপের প্রাইজমানির তথ্য অনুযায়ী তৎকালীন চ্যাম্পিয়ন ইতালি পেয়েছিল মাত্র ২২ লাখ ডলার। ৪৪ বছরের ব্যবধানে সেই অঙ্ক ২০ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৫ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

বিশ্বকাপজয়ী দলের ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ও কোচিং স্টাফ প্রত্যেকে একটি করে স্বর্ণপদক পান। রানার্সআপ দলের সদস্যরা পান রৌপ্যপদক এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী দল পায় ব্রোঞ্জপদক।

এ ছাড়া বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয় গোল্ডেন বল, গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন গ্লাভস। তবে এসব পুরস্কারের সঙ্গে কোনো অর্থমূল্য থাকে না; এগুলো কেবল সম্মাননা হিসেবে দেওয়া হয়।

এবারের বিশ্বকাপে দশ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন করেছেন ফ্রান্সের তারকা খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপ্পে। এদিকে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জিতেছেন স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি। আর সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার জিতেছেন স্পেনের উনাই সিমোন। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করে এই সম্মান অর্জন করেন তিনি।