স্টাফ রিপোর্টার
উচ্চ আদালতের রায়ে বরখাস্তকালীন সময়ের পূর্ণ বেতন-ভাতা না দেওয়ার নির্দেশনা থাকার পরও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) তিন কর্মকর্তা প্রায় ৫২ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেনÑএমন অভিযোগ ঘিরে প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কেসিসি কর্তৃপক্ষ।
কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে তৎকালীন মেয়র শেখ তৈয়েবুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পর সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ, অ্যাসেসর শেখ হাফিজুর রহমান এবং বাজার সুপার শেখ শফিকুল হাসান দিদার দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় ২০০৮ সালে তাদের চাকরি স্থগিত এবং ২০১৩ সালে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়। পরে তারা উচ্চ আদালতে গেলে আদালত তাদের চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। তবে রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, পুনর্বহাল হলেও তারা বরখাস্তকালীন সময়ের পূর্ণ বেতন-ভাতা দাবি করতে পারবেন না। আদালত কেবল জীবিকা নির্বাহ ভাতা বা অন্য কোনো সুবিধা দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেসিসিকে দেন।
অভিযোগ রয়েছে, সরকার পরিবর্তনের পর ওই তিন কর্মকর্তা বরখাস্তকালীন সময়ের প্রায় ৫২ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। তাদের মধ্যে দুজন প্রায় ১৭ লাখ টাকা করে এবং অপরজন প্রায় ১৮ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। এতে প্রশ্ন উঠেছে, আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় বিবেচনা না করেই কীভাবে সরকারি কোষাগার থেকে এ অর্থ ছাড় করা হলো।
তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লস্কার তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, অর্থ পরিশোধের সময় আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। বরং সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনিরের একটি পত্রের ভিত্তিতে বরখাস্তকালীন বেতন পরিশোধ করা হয়েছিল।
বর্তমানে কেসিসির বাজেট ও হিসাব শাখাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সরকারি অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এদিকে অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তার মধ্যে দুজন ইতোমধ্যে অবসরে গেছেন। ফলে অনিয়ম প্রমাণিত হলে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে বাজার সুপার শেখ শফিকুল হাসান দিদার বলেন, আদালতের রায়ে কেসিসিকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই তারা অর্থ গ্রহণ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন তিনি।
কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) রাজিব আহমেদ বলেন, বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোন ধরনের অন্যায়কে ছাড় দেয়া হবে না।
এড. বাবুল হাওলাদার ও অন্যান্য কয়েকজন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের নির্দেশের সঠিক ব্যাখ্যা এবং যে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে তা পূর্ণ বেতন নাকি আদালতের অনুমোদিত জীবিকা নির্বাহ ভাতাÑএই বিষয়টি তদন্তেই স্পষ্ট হবে।
তদন্তের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করবে এটি আদালতের রায়ের ভুল ব্যাখ্যা, নাকি প্রশাসনিক গাফিলতি ও সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ছিল। বিষয়টি নিয়ে কেসিসি’র কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।








































