Home স্বাস্থ্য রাতে আরামের ঘুম পেতে যেসব ব্যায়াম করতে পারেন

রাতে আরামের ঘুম পেতে যেসব ব্যায়াম করতে পারেন

0

মিলি রহমান।।

দিনভর কাজের ব্যস্ততা, মানসিক চাপ, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা এবং অতিরিক্ত সময় মোবাইল বা অন্যান্য স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে অনেকেরই রাতে ঘুমাতে সমস্যা হয়। শরীর ও মন যখন ক্লান্ত হলেও পুরোপুরি শিথিল হতে পারে না, তখন ঘুম আসতে দেরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ঘুমের ওষুধের ওপর নির্ভর না করে ঘুমানোর আগে কয়েক মিনিট হালকা স্ট্রেচিং করলে শরীর ও মনকে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত করা যায়। নিয়মিত এই অভ্যাস পেশির টান কমাতে, শরীরের নমনীয়তা বাড়াতে এবং দিনের জমে থাকা চাপ দূর করতে সহায়তা করতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ধীর গতির স্ট্রেচিংয়ের সঙ্গে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অভ্যাস স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে সাহায্য করে। এর ফলে শরীর ধীরে ধীরে আরাম অনুভব করে এবং ঘুমের জন্য উপযোগী অবস্থায় পৌঁছায়। পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন সকালে সতেজ অনুভূতি নিয়েও আসতে পারে।

ঘুমানোর আগে বিশেষজ্ঞরা কয়েক ধরনের সহজ স্ট্রেচিং করার পরামর্শ দেন———————————————————————–

চাইল্ডস পোজ: হাঁটু গেড়ে বসে শরীর সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে হাত সামনে প্রসারিত করতে হয়। এটি পিঠ, কাঁধ ও কোমরের চাপ কমাতে সহায়ক।

নেক স্ট্রেচ: মাথা ধীরে এক পাশের কাঁধের দিকে ঝুঁকিয়ে কিছুক্ষণ ধরে রেখে অন্য পাশেও একইভাবে করতে হয়। এতে ঘাড়ের শক্তভাব কমে।

সিটেড ফরোয়ার্ড বেন্ড: পা সামনে রেখে ধীরে ধীরে শরীর সামনের দিকে ঝুঁকাতে হয়। এই ব্যায়াম কোমর, উরু ও পায়ের পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে।

ক্যাট-কাউ স্ট্রেচ: হাত ও হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে শ্বাস নেওয়ার সময় পিঠ নিচের দিকে এবং শ্বাস ছাড়ার সময় পিঠ গোল করতে হয়। এতে মেরুদণ্ডের নমনীয়তা বাড়ে এবং পিঠের চাপ কমে।

বাটারফ্লাই স্ট্রেচ: দুই পায়ের পাতা একসঙ্গে রেখে হাঁটু দুই পাশে নামিয়ে বসতে হয়। এটি কোমর ও উরুর ভেতরের অংশের পেশির টান কমাতে কার্যকর।

স্ট্যান্ডিং ফরোয়ার্ড ফোল্ড: দাঁড়িয়ে ধীরে সামনের দিকে ঝুঁকে হাত নিচের দিকে ছেড়ে দিতে হয়। এতে পিঠ, কাঁধ ও পায়ের পেশি আরাম পায়।

লেগস আপ দ্য ওয়াল: দেয়ালের সঙ্গে পা উঁচু করে কয়েক মিনিট শুয়ে থাকা যায়। এটি পায়ের ক্লান্তি কমিয়ে শরীরকে বিশ্রামের অবস্থায় নিতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে ঘুমানোর আগে নিয়মিত কয়েক মিনিটের এই সহজ স্ট্রেচিং শরীরকে শিথিল করতে, মানসিক চাপ কমাতে এবং ভালো ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।